ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নির্ণায়ক হতে পারে পোস্টাল ভোট

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীরা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু প্রবাসীরাই নন, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই প্রক্রিয়ায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আইন থাকলেও বিদেশ থেকে কোনো ভোট আসতো না, তবে এবার সেই চিত্র পাল্টে যাচ্ছে।

গত ৫ জানুয়ারি পোস্টাল ব্যালটে ভোট ও গণভোটের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন এবং প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন। বিশ্বের ১২৩টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন।

ইতিমধ্যেই গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ভোটারদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রবাসীরা ডাকযোগে তাদের ভোট পাঠাতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে কুমিল্লা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে এই সংখ্যা বেশি। ফেনী-১, ২ ও ৩; চট্টগ্রাম-১৫, কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১১; নোয়াখালী-১ ও ৩ এবং সিলেট-১ আসনসহ মোট ১৮টি জেলায় ১০ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ভোটার রয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেসব আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেখানে এই পোস্টাল ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক সময় আমরা দেখেছি যে, এক ভোটের ব্যবধানেও ফলাফল নির্ধারিত হয়। এসব ক্ষেত্রে পোস্টাল ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবাসীরা যে এলাকার রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হবেন, সেভাবেই ভোট দেবেন। যেসব রাজনৈতিক দল বিদেশে বসবাসরত ভোটারদের প্রতি কম মনোযোগ দেবে, তারা হয়তো দেশে অনেক ভালো কাজ করেও ৫, ২ বা ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যেতে পারে, যা তাদের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হবে।

বিশেষজ্ঞরা পোস্টাল ভোটে কারচুপির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাই তারা পোস্টাল ব্যালট গণনা প্রক্রিয়ার ওপর নিবিড় নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ড. কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব আসনে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সেখানে প্রার্থীরা পোস্টাল ভোটকে নষ্ট করার জন্য হয়তো কোনো উপায় বের করতে পারে। তাই নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, প্রতিটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবশ্যই জানাতে হবে যে তিনি কতগুলো ব্যালট পেপার ইস্যু করেছেন এবং কতগুলো ব্যালট পেপার ফেরত এসেছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গণনা সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

এর আগে একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডাকযোগে ভোটদানে উৎসাহিত করতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নিজেই এই প্রক্রিয়ায় ভোট দিয়েছিলেন। তবে পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় পোস্টাল ভোটের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নরসিংদীতে শিশু হত্যার নির্মমতা: ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার জমিয়ত

এবারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নির্ণায়ক হতে পারে পোস্টাল ভোট

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রবাসীরা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু প্রবাসীরাই নন, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও এই প্রক্রিয়ায় তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার আইন থাকলেও বিদেশ থেকে কোনো ভোট আসতো না, তবে এবার সেই চিত্র পাল্টে যাচ্ছে।

গত ৫ জানুয়ারি পোস্টাল ব্যালটে ভোট ও গণভোটের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন এবং প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন। বিশ্বের ১২৩টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা এই প্রক্রিয়ায় ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন।

ইতিমধ্যেই গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার ভোটারদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রবাসীরা ডাকযোগে তাদের ভোট পাঠাতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে কুমিল্লা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে এই সংখ্যা বেশি। ফেনী-১, ২ ও ৩; চট্টগ্রাম-১৫, কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১১; নোয়াখালী-১ ও ৩ এবং সিলেট-১ আসনসহ মোট ১৮টি জেলায় ১০ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ভোটার রয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেসব আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেখানে এই পোস্টাল ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মাহবুবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক সময় আমরা দেখেছি যে, এক ভোটের ব্যবধানেও ফলাফল নির্ধারিত হয়। এসব ক্ষেত্রে পোস্টাল ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবাসীরা যে এলাকার রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হবেন, সেভাবেই ভোট দেবেন। যেসব রাজনৈতিক দল বিদেশে বসবাসরত ভোটারদের প্রতি কম মনোযোগ দেবে, তারা হয়তো দেশে অনেক ভালো কাজ করেও ৫, ২ বা ১ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যেতে পারে, যা তাদের জন্য একটি চিন্তার বিষয় হবে।

বিশেষজ্ঞরা পোস্টাল ভোটে কারচুপির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাই তারা পোস্টাল ব্যালট গণনা প্রক্রিয়ার ওপর নিবিড় নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। ড. কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব আসনে দুই শক্তিশালী প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সেখানে প্রার্থীরা পোস্টাল ভোটকে নষ্ট করার জন্য হয়তো কোনো উপায় বের করতে পারে। তাই নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, প্রতিটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবশ্যই জানাতে হবে যে তিনি কতগুলো ব্যালট পেপার ইস্যু করেছেন এবং কতগুলো ব্যালট পেপার ফেরত এসেছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে গণনা সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।

এর আগে একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডাকযোগে ভোটদানে উৎসাহিত করতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নিজেই এই প্রক্রিয়ায় ভোট দিয়েছিলেন। তবে পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় পোস্টাল ভোটের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।