ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুনে বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির আশঙ্কা, গভীর দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই আগুন শুধু ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএইএবি) প্রেসিডেন্ট কবীর আহমেদ খান জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুনে সরাসরি কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই হিসাব এখনই করা সম্ভব নয়। তবে এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে আমদানি ও রপ্তানি খাতে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আইএইএবি-এর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার কার্গোতে থাকা আমদানি ও রপ্তানির পণ্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই থাকে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতের মালামাল। দেশে বর্তমানে ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে। আর এই আগুন লাগা কার্গো ভিলেজেই মূলত আমদানি ও রপ্তানির জন্য অপেক্ষমাণ পণ্যগুলো সংরক্ষণ করা হয়।

শনিবার রাতে কবীর আহমেদ বলেন, কার্গো এক্সপ্রেস, ওয়্যারহাউজ, পণ্যবাহী বিমান, বিমানবন্দরের অবকাঠামোসহ সামগ্রিক কার্যক্রম থমকে গেছে। এর ফলে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, রপ্তানির ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তার পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরাসরি আর্থিক ক্ষতির বাইরেও বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে। যেমন— সময়মতো কাঁচামাল হাতে না পাওয়ায় অর্ডার বাতিল হওয়া, কয়েকগুণ বাড়তি খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হওয়া, ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট দেওয়া, সময় মতো নমুনা (স্যাম্পল) না পাওয়ায় অর্ডার নিশ্চিত করতে না পারা ইত্যাদি। এসব কারণে দেশের এই খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।

অন্যদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ী সমাজ যাত্রীসেবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই বিমানবন্দর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পণ্য পরিবহনে অনিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করায় দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উদ্যোক্তাদের আস্থা ও ব্যবসা পরিচালনার কার্যক্রমকে আরও সংকটের মুখে ফেলবে বলেও তিনি মনে করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হন। আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার বাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য আহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিমানবন্দরের সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৯টার দিকে বিমানবন্দর আবার চালু হয় এবং প্রথম ফ্লাইট রাত ৯টার পরে নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুনে বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির আশঙ্কা, গভীর দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই আগুন শুধু ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএইএবি) প্রেসিডেন্ট কবীর আহমেদ খান জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুনে সরাসরি কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই হিসাব এখনই করা সম্ভব নয়। তবে এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে আমদানি ও রপ্তানি খাতে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আইএইএবি-এর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার কার্গোতে থাকা আমদানি ও রপ্তানির পণ্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই থাকে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতের মালামাল। দেশে বর্তমানে ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে। আর এই আগুন লাগা কার্গো ভিলেজেই মূলত আমদানি ও রপ্তানির জন্য অপেক্ষমাণ পণ্যগুলো সংরক্ষণ করা হয়।

শনিবার রাতে কবীর আহমেদ বলেন, কার্গো এক্সপ্রেস, ওয়্যারহাউজ, পণ্যবাহী বিমান, বিমানবন্দরের অবকাঠামোসহ সামগ্রিক কার্যক্রম থমকে গেছে। এর ফলে শুধু ব্যবসায়ীরা নন, দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি, রপ্তানির ক্ষেত্রে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তার পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরাসরি আর্থিক ক্ষতির বাইরেও বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে। যেমন— সময়মতো কাঁচামাল হাতে না পাওয়ায় অর্ডার বাতিল হওয়া, কয়েকগুণ বাড়তি খরচে আকাশপথে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হওয়া, ক্রেতাদের ডিসকাউন্ট দেওয়া, সময় মতো নমুনা (স্যাম্পল) না পাওয়ায় অর্ডার নিশ্চিত করতে না পারা ইত্যাদি। এসব কারণে দেশের এই খাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।

অন্যদিকে, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যবসায়ী সমাজ যাত্রীসেবার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই বিমানবন্দর ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পণ্য পরিবহনে অনিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করায় দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উদ্যোক্তাদের আস্থা ও ব্যবসা পরিচালনার কার্যক্রমকে আরও সংকটের মুখে ফেলবে বলেও তিনি মনে করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশনসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হন। আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার বাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য আহত হন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিমানবন্দরের সব ধরনের উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর রাত ৯টার দিকে বিমানবন্দর আবার চালু হয় এবং প্রথম ফ্লাইট রাত ৯টার পরে নিরাপদে বিমানবন্দরে অবতরণ করে।