ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কেন খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তার নামের আগে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা যুক্ত করা হয়ে থাকে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণ। তার রাজনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা, আন্দোলন-কর্মসূচিতে অনড়তা এবং নিজ অবস্থানে অবিচল থাকার কারণে এই বিশেষণে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

গত ৩৫ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতা বা রাজনৈতিক আপসে যেতে অনাগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিরোধী দলের ভূমিকা সবক্ষেত্রেই তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপি তার নেতৃত্বে একাধিকবার টানা আন্দোলন, হরতাল ও কর্মসূচি পালন করেছে। সমর্থকদের কাছে এটি আপসহীনতার উদাহরণ। সামরিক শাসনোত্তর সময়ে রাজনীতিতে এসে তিনি নিজেকে রাজনীতির ময়দানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাকে আরও কঠোর করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করেন। তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা ও কারাবাসকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখেছেন বটে, কিন্তু তার বিপরীতে তিনি কারাবরণ করে কর্মীদের ধৈর্য ধরতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আপস না করে লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

এই আপসহীন নেত্রী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেছেন। এদিন সকাল ৬টায় তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মূল্যায়নে বারবার আপসহীন নেতৃত্বের কথা উঠে এসেছে। তার সহনশীলতার রাজনীতিও মানুষকে আকর্ষণ করেছে। মৃত্যুর পর অধ্যাপক আহমাদ মোস্তাফা কামাল লিখেছেন,  ‘‘আমি যতটুকু বুঝেছি, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ কয়েকটি বছর ছিল সেই বিশুদ্ধ হৃদয়, আর প্রশান্ত আত্মা অর্জন করার এক স্পিরিচুয়াল জার্নি। এই জার্নি রাজনৈতিক নয়, এ তার ব্যক্তিগত একাকী শুদ্ধতম জার্নি। মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাজীবন মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই জার্নি শুরু করেছিলেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই সম্ভাব্য কারাদণ্ডের কথা জানতেন। এই কারাবন্দি জীবন থেকে আর কখনও বেরুতে পারবেন না তাও জানতেন, তবুও রায়ের আগে তিনি লন্ডন থেকে ফিরে এসেছিলেন, জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই আদালতে গিয়েছিলেন এবং রায় ঘোষিত হওয়ার পর এক পরিত্যক্ত জেলখানায় একাকী কারাবাস শুরু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, জেলে যাওয়ার আগে তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন— তারা যেন কোনও সহিংস আন্দোলন না করে। এই যে নিঃসঙ্গ কারাবাস, নীরবতার কাছে নিজেকে সমর্পণ, বিবিধ অসুখবিসুখের অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করা, অবিচার এবং নিপীড়নকে মেনে নেওয়া— এই সবকিছু দিয়ে হয়তো তিনি তার অনুতাপদগ্ধ হৃদয়কে শান্ত করেছেন, হয়ে উঠেছেন শুদ্ধ মানুষ। আর তাই, যখন তিনি মুক্তি পেলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এলো, তিনি নিলেন না। বরং ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমরা প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা চাই শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভালোবাসার রাজনীতি।’ দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায়রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্যও সবার কাছে আহ্বান জানালেন। তার সেই শান্তির বার্তা আর আহ্বান সেদিন দেশকে একরক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।’’

তার আপসহীনতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (২০০৬–২০১৪) নিয়ে। তিনি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন অনড় ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করলে তিনি সংসদে বা রাজপথে সমঝোতায় যাননি। এরপর তিনি ২০১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় বিএনপি ওই নির্বাচন সম্পূর্ণ বর্জন করে। শেষ মুহূর্তেও তিনি অংশগ্রহণে আপস করেননি। যদিও এতে বিএনপি সংসদের বাইরে থাকে। ২০১৩-২০১৫ সময়কালে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে কঠোর অবস্থান নেন। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাব এলেও তিনি মূল দাবিতে ছাড় দেননি। এমনকি বিভিন্ন সময়ে সংলাপ বা জাতীয় ঐকমত্যের প্রস্তাব এলেও তিনি ক্ষমতা ভাগাভাগি বা কৌশলগত সমঝোতায় যাননি। সর্বশেষ, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক শর্তে মুক্তি বা আপসমূলক সমাধান তিনি মেনে নেননি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন।

তার এই অনড় অবস্থানের কারণে ১৯৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন শক্তি পায়। সেই সময় অংশীদারত্ব, মন্ত্রিত্বসহ আরও আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেখানো হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন, ‘স্বৈরাচারের অধীনে কোনও নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। যতক্ষণ না গণতন্ত্র মুক্তি পায়, ততক্ষণ রাজপথই আমার ঠিকানা।’ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হলে তিনি হন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক আপসহীনতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দালেনর সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘৮৬ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ যখন এরশাদ সরকারের আমলে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়ে গেলেন, খালেদা জিয়া তখন তার জোট নিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দালনে দৃঢ়চিত্ত। তিনি মাথা নত করেননি। এরপর ২০০৭ এর তত্ত্বাবধায়কের সময় মাইনাস টু করতে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠাতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন— তার বিদেশে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। এরপর ফেক ইস্যুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর সব প্রস্তুতি যখন শেখ হাসিনা সরকার সম্পাদন করলেন, তখন নানা রকম প্রস্তাব ওনাকে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তিনি আমলে নেননি। জেলজীবন বেছে নিয়েছেন। তার এই আপসহীন মনোভাব সবসময় মাঠের আন্দালনে সাহস যুগিয়েছে, তিনি সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও। ভবিষ্যতেও তাকে এ ধরনের যেকোনও আন্দোলনে স্মরণ করবে।’’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কূটনীতির মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

কেন খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

খালেদা জিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তার নামের আগে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা যুক্ত করা হয়ে থাকে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণ। তার রাজনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তা, আন্দোলন-কর্মসূচিতে অনড়তা এবং নিজ অবস্থানে অবিচল থাকার কারণে এই বিশেষণে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

গত ৩৫ বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সমঝোতা বা রাজনৈতিক আপসে যেতে অনাগ্রহী ছিলেন। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও বিরোধী দলের ভূমিকা সবক্ষেত্রেই তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপি তার নেতৃত্বে একাধিকবার টানা আন্দোলন, হরতাল ও কর্মসূচি পালন করেছে। সমর্থকদের কাছে এটি আপসহীনতার উদাহরণ। সামরিক শাসনোত্তর সময়ে রাজনীতিতে এসে তিনি নিজেকে রাজনীতির ময়দানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তাকে আরও কঠোর করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করেন। তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা ও কারাবাসকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখেছেন বটে, কিন্তু তার বিপরীতে তিনি কারাবরণ করে কর্মীদের ধৈর্য ধরতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আপস না করে লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সুনাম অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

এই আপসহীন নেত্রী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেছেন। এদিন সকাল ৬টায় তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মূল্যায়নে বারবার আপসহীন নেতৃত্বের কথা উঠে এসেছে। তার সহনশীলতার রাজনীতিও মানুষকে আকর্ষণ করেছে। মৃত্যুর পর অধ্যাপক আহমাদ মোস্তাফা কামাল লিখেছেন,  ‘‘আমি যতটুকু বুঝেছি, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ কয়েকটি বছর ছিল সেই বিশুদ্ধ হৃদয়, আর প্রশান্ত আত্মা অর্জন করার এক স্পিরিচুয়াল জার্নি। এই জার্নি রাজনৈতিক নয়, এ তার ব্যক্তিগত একাকী শুদ্ধতম জার্নি। মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাজীবন মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি সেই জার্নি শুরু করেছিলেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই সম্ভাব্য কারাদণ্ডের কথা জানতেন। এই কারাবন্দি জীবন থেকে আর কখনও বেরুতে পারবেন না তাও জানতেন, তবুও রায়ের আগে তিনি লন্ডন থেকে ফিরে এসেছিলেন, জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই আদালতে গিয়েছিলেন এবং রায় ঘোষিত হওয়ার পর এক পরিত্যক্ত জেলখানায় একাকী কারাবাস শুরু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, জেলে যাওয়ার আগে তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন— তারা যেন কোনও সহিংস আন্দোলন না করে। এই যে নিঃসঙ্গ কারাবাস, নীরবতার কাছে নিজেকে সমর্পণ, বিবিধ অসুখবিসুখের অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করা, অবিচার এবং নিপীড়নকে মেনে নেওয়া— এই সবকিছু দিয়ে হয়তো তিনি তার অনুতাপদগ্ধ হৃদয়কে শান্ত করেছেন, হয়ে উঠেছেন শুদ্ধ মানুষ। আর তাই, যখন তিনি মুক্তি পেলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ এলো, তিনি নিলেন না। বরং ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমরা প্রতিশোধ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা চাই শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভালোবাসার রাজনীতি।’ দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায়রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্যও সবার কাছে আহ্বান জানালেন। তার সেই শান্তির বার্তা আর আহ্বান সেদিন দেশকে একরক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।’’

তার আপসহীনতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (২০০৬–২০১৪) নিয়ে। তিনি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘদিন অনড় ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করলে তিনি সংসদে বা রাজপথে সমঝোতায় যাননি। এরপর তিনি ২০১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় বিএনপি ওই নির্বাচন সম্পূর্ণ বর্জন করে। শেষ মুহূর্তেও তিনি অংশগ্রহণে আপস করেননি। যদিও এতে বিএনপি সংসদের বাইরে থাকে। ২০১৩-২০১৫ সময়কালে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে কঠোর অবস্থান নেন। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাব এলেও তিনি মূল দাবিতে ছাড় দেননি। এমনকি বিভিন্ন সময়ে সংলাপ বা জাতীয় ঐকমত্যের প্রস্তাব এলেও তিনি ক্ষমতা ভাগাভাগি বা কৌশলগত সমঝোতায় যাননি। সর্বশেষ, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক শর্তে মুক্তি বা আপসমূলক সমাধান তিনি মেনে নেননি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন।

তার এই অনড় অবস্থানের কারণে ১৯৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন শক্তি পায়। সেই সময় অংশীদারত্ব, মন্ত্রিত্বসহ আরও আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেখানো হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন, ‘স্বৈরাচারের অধীনে কোনও নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। যতক্ষণ না গণতন্ত্র মুক্তি পায়, ততক্ষণ রাজপথই আমার ঠিকানা।’ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হলে তিনি হন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক আপসহীনতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দালেনর সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘৮৬ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ যখন এরশাদ সরকারের আমলে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়ে গেলেন, খালেদা জিয়া তখন তার জোট নিয়ে এরশাদবিরোধী আন্দালনে দৃঢ়চিত্ত। তিনি মাথা নত করেননি। এরপর ২০০৭ এর তত্ত্বাবধায়কের সময় মাইনাস টু করতে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠাতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন— তার বিদেশে যাওয়ার কোনও কারণ নেই। এরপর ফেক ইস্যুতে তাকে কারাগারে পাঠানোর সব প্রস্তুতি যখন শেখ হাসিনা সরকার সম্পাদন করলেন, তখন নানা রকম প্রস্তাব ওনাকে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তিনি আমলে নেননি। জেলজীবন বেছে নিয়েছেন। তার এই আপসহীন মনোভাব সবসময় মাঠের আন্দালনে সাহস যুগিয়েছে, তিনি সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও। ভবিষ্যতেও তাকে এ ধরনের যেকোনও আন্দোলনে স্মরণ করবে।’’