ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বৃহৎ অখণ্ড কংগ্রেসের পথে ভারত? মমতার তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে কংগ্রেসের ভাঙন থেকে গড়ে ওঠা দলগুলোর সম্ভাব্য পুনর্মিলনের প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি) আবারও কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে পারে, এমন জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

যদিও কংগ্রেসের সংগঠনবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল তৃণমূলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা নানা পাটোলে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নানা পাটোলে দাবি করেন, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, শরদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবছেন। এটি কোনো জোট নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ হতে পারে।

পাটোলে আরও দাবি করেন, শরদ পাওয়ারের পক্ষ থেকে এনসিপির (এসপি) একীভূত হওয়ার প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছিল, যা বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোট বিভাজন রোধ করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে আসা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতও কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত ছোট ছোট দলগুলোকে পুনরায় কংগ্রেসে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে শরদ পাওয়ারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। যারা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আলাদা দল গড়েছে, তাদের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করা উচিত।

রাউতের প্রস্তাবকে ‘ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এনসিপি (এসপি) নেত্রী ও শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে সরাসরি কোনো অবস্থান জানাননি। তিনি কৌশলী মন্তব্য করে বলেন, আগে বৃষ্টি হোক, তারপর দেখা যাবে ছাতা নেব, নাকি রেইনকোট। এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক দলে পরিণত হওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর এখন পুনরায় কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত এবং রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মত নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। গেহলটের মতে, দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা যেতে হবে যে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী

বৃহৎ অখণ্ড কংগ্রেসের পথে ভারত? মমতার তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে কংগ্রেসের ভাঙন থেকে গড়ে ওঠা দলগুলোর সম্ভাব্য পুনর্মিলনের প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি) আবারও কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে পারে, এমন জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

যদিও কংগ্রেসের সংগঠনবিষয়ক সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল তৃণমূলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা নানা পাটোলে এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নানা পাটোলে দাবি করেন, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, শরদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবছেন। এটি কোনো জোট নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ একীভূতকরণ হতে পারে।

পাটোলে আরও দাবি করেন, শরদ পাওয়ারের পক্ষ থেকে এনসিপির (এসপি) একীভূত হওয়ার প্রস্তাব আগেই দেওয়া হয়েছিল, যা বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোট বিভাজন রোধ করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোর এক প্ল্যাটফর্মে আসা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতও কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত ছোট ছোট দলগুলোকে পুনরায় কংগ্রেসে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে শরদ পাওয়ারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। যারা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আলাদা দল গড়েছে, তাদের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করা উচিত।

রাউতের প্রস্তাবকে ‘ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করলেও এনসিপি (এসপি) নেত্রী ও শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে সরাসরি কোনো অবস্থান জানাননি। তিনি কৌশলী মন্তব্য করে বলেন, আগে বৃষ্টি হোক, তারপর দেখা যাবে ছাতা নেব, নাকি রেইনকোট। এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক দলে পরিণত হওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলোর এখন পুনরায় কংগ্রেসে ফিরে আসা উচিত এবং রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মত নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া প্রয়োজন। গেহলটের মতে, দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা যেতে হবে যে ইন্ডিয়া জোটের নেতা রাহুল গান্ধী।