ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

এনসিপি-জামায়াত জোট ও মাহফুজ আলমের দূরত্ব: ছাত্র নেতৃত্বে বড় ফাটল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি এই কঠোর অবস্থান নিলেন, যা দলটির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই ‘এনসিপির অংশ হতে চান না। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের প্রতি তার সম্মান অটুট থাকলেও জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়া তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে গত বছর নিউইয়র্কে বিল ক্লিনটনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় জুলাই বিপ্লবের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মাহফুজ আলমের এই সরে দাঁড়ানো এনসিপির নৈতিক ভিত্তিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জামায়াতের সাথে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত আসার পর থেকেই এনসিপির ভেতর বিদ্রোহ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেত্রী ও চিকিৎসক তাসনূভা জাবিন এবং তাসনিম জারা ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতের বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা এনসিপির ঘোষিত গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক চেতনার সাথে কোনোভাবেই খাপ খায় না।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই জোটকে কেবল ‘কৌশলগত এবং নির্বাচনী সমঝোতা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মাহফুজ আলমের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের দূরত্ব দলের ভোটব্যাংকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির সাথে আসন সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর এনসিপি জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়লে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ বিহীন আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের এই লড়াই বাংলাদেশকে এক নতুন এবং অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

এনসিপি-জামায়াত জোট ও মাহফুজ আলমের দূরত্ব: ছাত্র নেতৃত্বে বড় ফাটল

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সাথে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি এই কঠোর অবস্থান নিলেন, যা দলটির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই ‘এনসিপির অংশ হতে চান না। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের প্রতি তার সম্মান অটুট থাকলেও জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়া তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। উল্লেখ্য যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে গত বছর নিউইয়র্কে বিল ক্লিনটনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় জুলাই বিপ্লবের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মাহফুজ আলমের এই সরে দাঁড়ানো এনসিপির নৈতিক ভিত্তিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জামায়াতের সাথে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত আসার পর থেকেই এনসিপির ভেতর বিদ্রোহ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেত্রী ও চিকিৎসক তাসনূভা জাবিন এবং তাসনিম জারা ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতের বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা এনসিপির ঘোষিত গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক চেতনার সাথে কোনোভাবেই খাপ খায় না।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই জোটকে কেবল ‘কৌশলগত এবং নির্বাচনী সমঝোতা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও মাহফুজ আলমের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের দূরত্ব দলের ভোটব্যাংকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির সাথে আসন সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর এনসিপি জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়লে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ বিহীন আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের এই লড়াই বাংলাদেশকে এক নতুন এবং অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।