ভারতে বড়দিনের আনন্দ উদযাপনে বাধা, হামলা ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও কেরালাসহ একাধিক রাজ্যে। এসব সহিংসতার পেছনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি শপিং মলে প্রায় ১০০ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও কর্মীদের হুমকি দেয়। অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রকাশ্যে হিন্দুদের বড়দিন পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে একে নিজেদের সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে দাবি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কেরালাতেও বড়দিনের ক্যারল মিছিলে অংশ নেওয়া শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আরএসএস সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি শিশুদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে দেয়। তবে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর বদলে বিজেপি নেতারা ভুক্তভোগী শিশুদের ‘মদ্যপ অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এ ছাড়া মধ্যপ্রদেশে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে লাঞ্ছিত করা এবং দিল্লিতে সান্তা ক্লজের টুপি পরা নারী ও শিশুদের হেনস্তা করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এসব হামলাকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভারতের ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স (সিবিসিআই) খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর এই ধারাবাহিক আক্রমণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে কার্যকর সুরক্ষা দাবি করেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর এমন আগ্রাসী মনোভাব ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিপোর্টারের নাম 





















