ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দাবি করেন।

ওই সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত যুদ্ধশেষের আকাঙ্ক্ষা, চলমান আলোচনার জটিলতা এবং যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার গড়িমসি নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের শান্তি-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় এখনও দু’টি মূল ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে—ভূখণ্ডের অধিকার এবং জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কল্পিত সমাধানটি হলো—ইউক্রেনীয় বাহিনী ডোনেস্কের একটি অংশ থেকে সরে আসবে, আর রুশ বাহিনী অগ্রসর না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে। ওই এলাকা হবে “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল” বা “বেসামরিকায়িত এলাকা”।

তবে তিনি বলেন, কেবল ইউক্রেনের একতরফা সরে যাওয়া কোনও ভাবেই ন্যায্য হবে না—রাশিয়াকেও সমান দূরত্ব পিছু হটতে হবে।

ডোনেস্কের ৩০ শতাংশের মতো অঞ্চলে ইউক্রেন এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সেখান থেকে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ হটিয়ে নিজেরা দখলে নিতে চায় ক্রেমলিন। ইউক্রেন তাদের এই প্রস্তাব নাকচ করেছে। কিয়েভের মতে, এটি নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের সুযোগ তৈরি করবে।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি হালনাগাদ ২০ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পুনর্গঠনের প্রস্তাব সম্বলিত পৃথক নথিও দিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যকার তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এসব প্রস্তাব তৈরি, সংশোধন ও পুনর্গঠিত হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, (যাত্রার) শেষ মাইলটুকুই সবচেয়ে কঠিন। বিভিন্ন কারণে সবকিছু ভেস্তে যেতে পারে।

জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাও বড় বিতর্কের বিষয় বলে জানান তিনি। ইউরোপের বৃহত্তম এই প্ল্যান্টটি ফ্রন্টলাইনে অবস্থিত এবং ২০২২ সালের মার্চ থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, সম্ভাব্য এক সমাধান হতে পারে—রাশিয়া সরে যাবে, আর কিয়েভ-ওয়াশিংটন যৌথভাবে প্ল্যান্টের নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় এবং মস্কো এতে রাজি হবে কি না সেটারও নিশ্চয়তা নেই।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট সময় : ০৯:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

পূর্বাঞ্চলীয় ডোনেস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দাবি করেন।

ওই সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত যুদ্ধশেষের আকাঙ্ক্ষা, চলমান আলোচনার জটিলতা এবং যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার গড়িমসি নিয়ে নিজের মত তুলে ধরেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের শান্তি-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় এখনও দু’টি মূল ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে—ভূখণ্ডের অধিকার এবং জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কল্পিত সমাধানটি হলো—ইউক্রেনীয় বাহিনী ডোনেস্কের একটি অংশ থেকে সরে আসবে, আর রুশ বাহিনী অগ্রসর না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে। ওই এলাকা হবে “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল” বা “বেসামরিকায়িত এলাকা”।

তবে তিনি বলেন, কেবল ইউক্রেনের একতরফা সরে যাওয়া কোনও ভাবেই ন্যায্য হবে না—রাশিয়াকেও সমান দূরত্ব পিছু হটতে হবে।

ডোনেস্কের ৩০ শতাংশের মতো অঞ্চলে ইউক্রেন এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। সেখান থেকে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ হটিয়ে নিজেরা দখলে নিতে চায় ক্রেমলিন। ইউক্রেন তাদের এই প্রস্তাব নাকচ করেছে। কিয়েভের মতে, এটি নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসনের সুযোগ তৈরি করবে।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি হালনাগাদ ২০ দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পুনর্গঠনের প্রস্তাব সম্বলিত পৃথক নথিও দিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যকার তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই এসব প্রস্তাব তৈরি, সংশোধন ও পুনর্গঠিত হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, (যাত্রার) শেষ মাইলটুকুই সবচেয়ে কঠিন। বিভিন্ন কারণে সবকিছু ভেস্তে যেতে পারে।

জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনাও বড় বিতর্কের বিষয় বলে জানান তিনি। ইউরোপের বৃহত্তম এই প্ল্যান্টটি ফ্রন্টলাইনে অবস্থিত এবং ২০২২ সালের মার্চ থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, সম্ভাব্য এক সমাধান হতে পারে—রাশিয়া সরে যাবে, আর কিয়েভ-ওয়াশিংটন যৌথভাবে প্ল্যান্টের নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি করবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয় এবং মস্কো এতে রাজি হবে কি না সেটারও নিশ্চয়তা নেই।

সূত্র: বিবিসি