ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ব্যাংক খাত থেকে অবাধ ঋণের সুযোগ সীমিত হচ্ছে, বিকল্প অর্থায়নে জোর

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাত থেকে একক গ্রাহকের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পুরো ব্যাংক খাত জুড়ে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবে। পাশাপাশি, বড় এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এই পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ঋণের ঝুঁকি কমানো এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন থেকেও এ ধরনের প্রস্তাবনা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত এক দশকে ঋণ জালিয়াতি, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সুশাসনের অভাব ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের নিজেদের, আত্মীয়-স্বজন বা সহযোগীদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অর্থ বের করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এসব ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে একজন গ্রাহক একটি ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। তবে, পুরো ব্যাংক খাত থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই, এবার পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঋণের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, যা একজন গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, ব্যাংকগুলোর বর্তমান তারল্য সংকটে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ, ব্যাংকগুলো মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। এতে ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের (Asset-Liability) মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা তারল্য ঝুঁকি বাড়ায়। এই কারণে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বন্ড মার্কেট…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

ব্যাংক খাত থেকে অবাধ ঋণের সুযোগ সীমিত হচ্ছে, বিকল্প অর্থায়নে জোর

আপডেট সময় : ১০:২৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাত থেকে একক গ্রাহকের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন পুরো ব্যাংক খাত জুড়ে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার একটি সীমা নির্ধারণ করে দেবে। পাশাপাশি, বড় এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এই পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ঋণের ঝুঁকি কমানো এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন থেকেও এ ধরনের প্রস্তাবনা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত এক দশকে ঋণ জালিয়াতি, দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সুশাসনের অভাব ব্যাংক খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের নিজেদের, আত্মীয়-স্বজন বা সহযোগীদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অর্থ বের করে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এসব ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় ব্যাংক খাত খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে একজন গ্রাহক একটি ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। তবে, পুরো ব্যাংক খাত থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। তাই, এবার পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ঋণের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, যা একজন গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, ব্যাংকগুলোর বর্তমান তারল্য সংকটে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ, ব্যাংকগুলো মূলত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। এতে ব্যাংকের সম্পদ ও দায়ের (Asset-Liability) মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা তারল্য ঝুঁকি বাড়ায়। এই কারণে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য বিকল্প উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি বন্ড মার্কেট…