ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

গ্যাস সংকটে শিল্পখাতে ভয়াবহ বিপর্যয়: উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা

দেশের শিল্পখাত বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ফলে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দেশীয় জ্বালানি উন্নয়নের গতি শ্লথ করে দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় বাড়ছে, তেমনি শিল্প উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানা গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে অধিকাংশ কারখানাই টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার উপর।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিল্পকারখানাগুলো এখন একেবারেই গ্যাস পাচ্ছে না। এই সংকট এতটাই তীব্র যে, অনেক কারখানা মালিক বাধ্য হয়ে উৎপাদন সীমিত করেছেন, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অতীতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এতটাই প্রকট হয়েছে যে, নিয়মিত উৎপাদন চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় যন্ত্রপাতি সচল রাখা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। বহু কারখানায় শ্রমিকরা কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও উৎপাদন না থাকায় অলস সময় পার করছেন। কেউ বেতন পাচ্ছেন, আবার অনেকে চাকরি টিকিয়ে রাখার আশায় কম বেতন বা বিলম্বিত বেতন মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যা: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন

গ্যাস সংকটে শিল্পখাতে ভয়াবহ বিপর্যয়: উৎপাদন বন্ধ, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দেশের শিল্পখাত বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ফলে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দেশীয় জ্বালানি উন্নয়নের গতি শ্লথ করে দেওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় বাড়ছে, তেমনি শিল্প উৎপাদনেও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানা গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। জ্বালানির অনিশ্চিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে অধিকাংশ কারখানাই টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার উপর।

বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিল্পকারখানাগুলো এখন একেবারেই গ্যাস পাচ্ছে না। এই সংকট এতটাই তীব্র যে, অনেক কারখানা মালিক বাধ্য হয়ে উৎপাদন সীমিত করেছেন, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অতীতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এতটাই প্রকট হয়েছে যে, নিয়মিত উৎপাদন চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় যন্ত্রপাতি সচল রাখা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। বহু কারখানায় শ্রমিকরা কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও উৎপাদন না থাকায় অলস সময় পার করছেন। কেউ বেতন পাচ্ছেন, আবার অনেকে চাকরি টিকিয়ে রাখার আশায় কম বেতন বা বিলম্বিত বেতন মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।