ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে দেশজুড়ে শতাধিক মানুষ গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আজ রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।

তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত ২১ জুন এই মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি তাঁর জবানবন্দিতে দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার সঙ্গে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন। ইমরুল কায়েসের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি জিয়াউল আহসানকে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা করতে দেখেছেন। এর মধ্যে ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরতে। ওই অভিযানে জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন। তাঁদের ইনজেকশন পুশ করে এবং পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে অবস্থিত আর্মি ক্যাম্পের পাশের নদীতে সিমেন্ট ভর্তি দুটি বস্তায় বেঁধে, মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তাঁর গাড়িতে অস্ত্র ও গুলি থাকত, যা সাধারণত তল্লাশি করা হতো না। এই মামলার প্রথম সাক্ষী ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের আগমনের পর জিয়াউল আহসান এডিজি র‍্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং এরপর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জিয়াউল আহসান তাঁর নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী রাখেন, বাসায় অস্ত্র রাখেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তাঁকে এসব নিয়ম ভাঙার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

মানবতাবিরোধী অপরাধে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউলের বিরুদ্ধে আজ ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি

আপডেট সময় : ১০:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে দেশজুড়ে শতাধিক মানুষ গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আজ রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তাঁর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।

তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত ২১ জুন এই মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন জিয়াউলের সাবেক দেহরক্ষী সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস। তিনি তাঁর জবানবন্দিতে দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার সঙ্গে জিয়াউল আহসান জড়িত ছিলেন। ইমরুল কায়েসের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি জিয়াউল আহসানকে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা করতে দেখেছেন। এর মধ্যে ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরতে। ওই অভিযানে জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন। তাঁদের ইনজেকশন পুশ করে এবং পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে অবস্থিত আর্মি ক্যাম্পের পাশের নদীতে সিমেন্ট ভর্তি দুটি বস্তায় বেঁধে, মাথায় গুলি করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তাঁর গাড়িতে অস্ত্র ও গুলি থাকত, যা সাধারণত তল্লাশি করা হতো না। এই মামলার প্রথম সাক্ষী ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের আগমনের পর জিয়াউল আহসান এডিজি র‍্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং এরপর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জিয়াউল আহসান তাঁর নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী রাখেন, বাসায় অস্ত্র রাখেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন। তাঁকে এসব নিয়ম ভাঙার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়।