ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

স্পেনে দাবানলে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ, আশ্রয়কেন্দ্রে দিনযাপন

স্পেনের মাদ্রিদের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। শুক্রবার (২৬ জুলাই) থেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এই আগুনে ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল ও আভিলা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানল স্থানীয়দের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

চাপিনেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এলভিরা মেনেন্দেজ জানান, দাবানল থেকে বাঁচতে তাকে ও তার প্রতিবেশীদের স্থানীয় জিমনেসিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কুকুর আছে, মানুষ নাক ডাকছে। কিন্তু এটি আমাদের বাড়ির মতো নয়।’ তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের খুব ভালোভাবে দেখাশোনা করছেন, কম্বল ও গোসলের ব্যবস্থা করেছেন। এলভিরা মেনেন্দেজ বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো এমন কিছু দেখিনি। আগুন যখন এগিয়ে আসছিল, তখন আমার মনে হয়েছিল আমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারি।’

দাবানলের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঐতিহাসিক এল এসকোরিয়াল মঠও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ব্রুনেটের মেয়র মার নিকোলাস জানান, আগুন ‘সম সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে’। তার শহর প্রায় ১০০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ছিল মানুষের জীবন রক্ষা করা।’ তবে একই সঙ্গে তিনি এই আগুনের কারণে সৃষ্ট ‘বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভিলাভিসিওসা দে ওদোনের জিমনেসিয়ামে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরা দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়। স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের খেলাধুলা ও রং করার কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ৬১ বছর বয়সি গৃহ পরিচর্যাকারী ভিক্টোরিয়া হুরতাদোকেও চাপিনেরিয়া থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে। তিনি প্রতিদিন যে বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশোনা করেন, তাকেও সঙ্গে নিয়ে বের হতে হয়েছে। তারা দুজনই শুধু একটি করে ছোট ব্যাগ নিতে পেরেছিলেন, যেখানে ছিল কিছু কাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুরক্ষাই প্রথম: শিশুর নিরাপদ শৈশবকে জাতীয় অগ্রাধিকারের দাবি

স্পেনে দাবানলে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ, আশ্রয়কেন্দ্রে দিনযাপন

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

স্পেনের মাদ্রিদের উপকণ্ঠে ভয়াবহ দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। শুক্রবার (২৬ জুলাই) থেকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এই আগুনে ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল ও আভিলা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানল স্থানীয়দের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

চাপিনেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এলভিরা মেনেন্দেজ জানান, দাবানল থেকে বাঁচতে তাকে ও তার প্রতিবেশীদের স্থানীয় জিমনেসিয়ামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে কুকুর আছে, মানুষ নাক ডাকছে। কিন্তু এটি আমাদের বাড়ির মতো নয়।’ তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের খুব ভালোভাবে দেখাশোনা করছেন, কম্বল ও গোসলের ব্যবস্থা করেছেন। এলভিরা মেনেন্দেজ বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো এমন কিছু দেখিনি। আগুন যখন এগিয়ে আসছিল, তখন আমার মনে হয়েছিল আমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারি।’

দাবানলের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঐতিহাসিক এল এসকোরিয়াল মঠও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ব্রুনেটের মেয়র মার নিকোলাস জানান, আগুন ‘সম সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে’। তার শহর প্রায় ১০০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অগ্রাধিকার ছিল মানুষের জীবন রক্ষা করা।’ তবে একই সঙ্গে তিনি এই আগুনের কারণে সৃষ্ট ‘বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয়’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভিলাভিসিওসা দে ওদোনের জিমনেসিয়ামে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরা দিন কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়। স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের খেলাধুলা ও রং করার কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ৬১ বছর বয়সি গৃহ পরিচর্যাকারী ভিক্টোরিয়া হুরতাদোকেও চাপিনেরিয়া থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে। তিনি প্রতিদিন যে বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তির দেখাশোনা করেন, তাকেও সঙ্গে নিয়ে বের হতে হয়েছে। তারা দুজনই শুধু একটি করে ছোট ব্যাগ নিতে পেরেছিলেন, যেখানে ছিল কিছু কাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।