ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কোম্পানি: হাইকোর্টে প্রতিবেদন

সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর এক প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সসহ এস আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইসলামী ব্যাংকের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি ওয়ালিউল ইসলাম গত ২০২৫ সালের ১১ মার্চ তিনটি নির্দেশনা ও রুল জারি করেন। এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্বেকার বোর্ড ডিরেক্টরগণ ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ এবং জেএমসি বিল্ডার্সের কোনো শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে না। এছাড়াও, বিএফআইইউকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা গত ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর দাখিল করা হয়। তবে, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই মামলায় ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাউয়ুম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ এবং ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর পক্ষে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে জেএমসি বিল্ডার্সের ২৪টি কোম্পানির নামে মোট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এসব শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন। কারণ, তিনি তখন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি ডিরেক্টর হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করে এসব শেয়ার অনুমোদন করেছিলেন।

শিশির মনির বলেন, রিটে তাদের মূল দাবি ছিল এস আলমের কর্তৃক দখলকৃত শেয়ার তার উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার বা প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়া, ঋণ জালিয়াতি ও শেয়ার জালিয়াতির অপরাধে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনা। তিনি আরও জানান, একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। কিন্তু এস আলম ও তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তান্তর করে সর্বমোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলে নেয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র জেএমসি বিল্ডার্সের ২৪টি শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদক ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর কোম্পানি: হাইকোর্টে প্রতিবেদন

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর এক প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সসহ এস আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইসলামী ব্যাংকের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি ওয়ালিউল ইসলাম গত ২০২৫ সালের ১১ মার্চ তিনটি নির্দেশনা ও রুল জারি করেন। এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পূর্বেকার বোর্ড ডিরেক্টরগণ ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ এবং জেএমসি বিল্ডার্সের কোনো শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে না। এছাড়াও, বিএফআইইউকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা গত ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর দাখিল করা হয়। তবে, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই মামলায় ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাউয়ুম, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ এবং ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর পক্ষে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে জেএমসি বিল্ডার্সের ২৪টি কোম্পানির নামে মোট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এসব শেয়ার জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন। কারণ, তিনি তখন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি ডিরেক্টর হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করে এসব শেয়ার অনুমোদন করেছিলেন।

শিশির মনির বলেন, রিটে তাদের মূল দাবি ছিল এস আলমের কর্তৃক দখলকৃত শেয়ার তার উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার বা প্রকৃত মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া। এছাড়া, ঋণ জালিয়াতি ও শেয়ার জালিয়াতির অপরাধে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনা। তিনি আরও জানান, একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। কিন্তু এস আলম ও তাদের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলো ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে হস্তান্তর করে সর্বমোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলে নেয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র জেএমসি বিল্ডার্সের ২৪টি শেয়ার জালিয়াতির মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।