ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ: ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং তা বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর আওতায় এই শুল্কারোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি এবং দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলেও মোট শুল্কহারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। পূর্বের ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আপাতত বহাল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে, গত এক বছরে বাংলাদেশের পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামোতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত বছরের এপ্রিলে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্কারোপের পর দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যচুক্তির পর ১৯ শতাংশে নেমে আসে। এরপর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলে ট্রেড অ্যাক্টের আওতায় নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়।

প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে ২.৫ শতাংশ বেশি। এই শুল্ক ব্যবধানের কারণে মূল্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পুরোপুরি পিছিয়ে পড়বে না বলে তিনি মনে করেন। তবে, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে শুল্কের পার্থক্য এবং এর সামগ্রিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ: ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন এবং তা বন্ধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর আওতায় এই শুল্কারোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি এবং দেশের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলেও মোট শুল্কহারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন আসছে না। পূর্বের ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আপাতত বহাল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে, গত এক বছরে বাংলাদেশের পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কাঠামোতে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন এসেছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত বছরের এপ্রিলে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্কারোপের পর দরকষাকষির মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যচুক্তির পর ১৯ শতাংশে নেমে আসে। এরপর মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলে ট্রেড অ্যাক্টের আওতায় নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হয়।

প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের উপর ১২.৫ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের চেয়ে ২.৫ শতাংশ বেশি। এই শুল্ক ব্যবধানের কারণে মূল্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পুরোপুরি পিছিয়ে পড়বে না বলে তিনি মনে করেন। তবে, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে শুল্কের পার্থক্য এবং এর সামগ্রিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।