প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন যে, এটি তার জন্য ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন ছিল না, বরং দেশের শিক্ষার্থী, জাতীয় ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর কাছে তদন্তের ভার হস্তান্তর করে, পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক (সিবিটি) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ২১ জুন অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তিনি পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনো পরিস্থিতি এড়িয়ে যাননি। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফলকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবার ভালো ফল করেছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপশক্তি সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 




















