ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে গত ২০ জুলাই মো. আনিছুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। এর পরদিন, ২১ জুলাই, সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ইসি। এই তদন্ত কমিটিকে রাজশাহী অঞ্চলে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা জারি করে। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে অফলাইনে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ (ডিপিএম) অনুসরণের অনুমোদন দেয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

নির্দেশনা অনুসারে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর জন্য ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী সহ মোট ১৪৩ জন কর্মী সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী, ১৩৭ জন অভিজ্ঞ কর্মীর একটি তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় এবং জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা নতুন করে কর্মস্থলে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী পূর্বে কর্মরত কর্মীদের বহাল রেখেই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আলাদা কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে, তিনি এও উল্লেখ করেন যে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো লেনদেন করে থাকলে তার দায়ভার কেএসএফ ট্রেড নেবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পান্থকুঞ্জে এক্সপ্রেসওয়ে র‌্যাম্প নির্মাণ: সমীক্ষা ও স্বচ্ছতার দাবিতে সরব নগর পরিকল্পনাবিদগণ

নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৭:২৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে গত ২০ জুলাই মো. আনিছুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। এর পরদিন, ২১ জুলাই, সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ইসি। এই তদন্ত কমিটিকে রাজশাহী অঞ্চলে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা জারি করে। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে অফলাইনে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ (ডিপিএম) অনুসরণের অনুমোদন দেয় এবং ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

নির্দেশনা অনুসারে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর জন্য ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী সহ মোট ১৪৩ জন কর্মী সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্বে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী, ১৩৭ জন অভিজ্ঞ কর্মীর একটি তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয় এবং জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা নতুন করে কর্মস্থলে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় যে, জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী পূর্বে কর্মরত কর্মীদের বহাল রেখেই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আলাদা কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে, তিনি এও উল্লেখ করেন যে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো লেনদেন করে থাকলে তার দায়ভার কেএসএফ ট্রেড নেবে না।