ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভিডিও নয়, পদক্ষেপ চাই: মোদিকে রাহুল গান্ধী

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৩ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবিতে অনড় থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশে করে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেবল ভিডিও বার্তা বা আশ্বাস নয়, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে চায়।

শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তার পাশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ‘দুর্নীতি ও ধ্বংসের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হবে না।

সরকারের ভেতরের গুঞ্জনের দিকে ইঙ্গিত করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে বদলি করার পরিকল্পনা চলছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তাকে সরকার থেকেই বের করে দিতে হবে।’

সম্প্রতি গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিও নিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকাল গভীর রাতে ভিডিও বানাতে ব্যস্ত। তিনি বলছেন পরামর্শ পেয়ে নাকি তিনি কৃতজ্ঞ! কিন্তু শিক্ষার্থীরা আশ্বাস নয়, সরাসরি পদক্ষেপ চায়। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে।’

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাহুল গান্ধী তার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থীর পায়ের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, ছররা গুলি ছুঁড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে—তাদের শাস্তি পেতেই হবে। এই পুরো ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে যন্তর মন্তরে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের ভারতের ভবিষ্যৎ এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘অতীত’ হিসেবে বর্ণনা করে রাহুল বলেন, ‘অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দাবিগুলো তার নিজের নয়, বরং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতির একমাত্র দল: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ভিডিও নয়, পদক্ষেপ চাই: মোদিকে রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় : ০২:৪৬:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৩ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্তের দাবিতে অনড় থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশে করে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেবল ভিডিও বার্তা বা আশ্বাস নয়, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দেখতে চায়।

শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তার পাশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার ‘দুর্নীতি ও ধ্বংসের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হবে না।

সরকারের ভেতরের গুঞ্জনের দিকে ইঙ্গিত করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে বদলি করার পরিকল্পনা চলছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—তাকে সরকার থেকেই বের করে দিতে হবে।’

সম্প্রতি গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বার্তা ও ভিডিও নিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজকাল গভীর রাতে ভিডিও বানাতে ব্যস্ত। তিনি বলছেন পরামর্শ পেয়ে নাকি তিনি কৃতজ্ঞ! কিন্তু শিক্ষার্থীরা আশ্বাস নয়, সরাসরি পদক্ষেপ চায়। প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে।’

আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাহুল গান্ধী তার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থীর পায়ের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, ছররা গুলি ছুঁড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে—তাদের শাস্তি পেতেই হবে। এই পুরো ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে যন্তর মন্তরে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের ভারতের ভবিষ্যৎ এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘অতীত’ হিসেবে বর্ণনা করে রাহুল বলেন, ‘অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দাবিগুলো তার নিজের নয়, বরং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।