ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

হাসপাতালে বন্দিদশার অভিযোগ শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের, নিজেকে ‘বন্দি’ দাবি

ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। গত ১৮ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে ‘বন্দির মতো’ আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই উদ্বেগজনক তথ্য জানান।

ওয়াংচুক বলেন, ‘এটা শুধু একটি সাধারণ হাসপাতাল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সেনানিবাস, একটি কারাগার। আমাকে এমনভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, যা কোনো সাধারণ বন্দির ক্ষেত্রেও করা হয় না।’ তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভেতরে তার চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তিনি তার কক্ষের বাইরে যেতে পারতেন না, এমনকি তার জানালার কাছে কোনো পাখিও ডানা ঝাপটাতে পারত না। কারো সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও তাকে দেওয়া হয়নি, কেবল তিনজন নিকটাত্মীয়কে তার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

লাদাখের এই বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী আরও অভিযোগ করেন যে, তাকে হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। কক্ষের বাইরে যাওয়া এবং বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারায় তাকে রাখা হয়েছিল এবং কাউকেই তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সোনম ওয়াংচুক জানান, হাসপাতালে তার আত্মীয়রা লাদাখ থেকে দেখা করতে এলেও, তাদের ফিরতি প্লেনের টিকিট কেটে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে থাকাকালীন তিনি হাতে লেখা বার্তা পাঠাতে চাইলেও, তাকে কাগজ-কলম দেওয়া হয়নি। তিনি লুকিয়ে টিস্যুতে বার্তা লিখে গোপনভাবে কারো মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে পাঠাতেন। যদি কেউ তা দেখে ফেলত, তবে সেটি কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হতো।

ওয়াংচুক আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের নির্দেশের পরেও তাকে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করানো হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

হাসপাতালে বন্দিদশার অভিযোগ শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের, নিজেকে ‘বন্দি’ দাবি

আপডেট সময় : ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। গত ১৮ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে ‘বন্দির মতো’ আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এই উদ্বেগজনক তথ্য জানান।

ওয়াংচুক বলেন, ‘এটা শুধু একটি সাধারণ হাসপাতাল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সেনানিবাস, একটি কারাগার। আমাকে এমনভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, যা কোনো সাধারণ বন্দির ক্ষেত্রেও করা হয় না।’ তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভেতরে তার চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তিনি তার কক্ষের বাইরে যেতে পারতেন না, এমনকি তার জানালার কাছে কোনো পাখিও ডানা ঝাপটাতে পারত না। কারো সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও তাকে দেওয়া হয়নি, কেবল তিনজন নিকটাত্মীয়কে তার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

লাদাখের এই বিশিষ্ট আন্দোলনকর্মী আরও অভিযোগ করেন যে, তাকে হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। কক্ষের বাইরে যাওয়া এবং বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রেও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারায় তাকে রাখা হয়েছিল এবং কাউকেই তার কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সোনম ওয়াংচুক জানান, হাসপাতালে তার আত্মীয়রা লাদাখ থেকে দেখা করতে এলেও, তাদের ফিরতি প্লেনের টিকিট কেটে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে থাকাকালীন তিনি হাতে লেখা বার্তা পাঠাতে চাইলেও, তাকে কাগজ-কলম দেওয়া হয়নি। তিনি লুকিয়ে টিস্যুতে বার্তা লিখে গোপনভাবে কারো মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে পাঠাতেন। যদি কেউ তা দেখে ফেলত, তবে সেটি কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হতো।

ওয়াংচুক আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের নির্দেশের পরেও তাকে হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করানো হয়েছিল।