কবি আল মাহমুদের জীবন, ইতিহাস ও সভ্যতার নানা পরিক্রমা অতিক্রম করে নিজের জাতিসত্তা, আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার ও সাংস্কৃতিক শিকড়ে ফেরার যে মননযাত্রা, তা তার প্রবন্ধসাহিত্যে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি, “আমি মার্কসীয় দ্বান্দ্বিক তত্ত্ব, মানবজাতির শ্রম ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের বিস্ময়কর ব্যাখ্যা, শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও পুঁজিগঠনের দুঃসাহসিক বর্ণনার সাথে সাথে উদ্বৃত্ত পুঁজির কেন্দ্রীভূত হওয়ার গূঢ় কারণসমূহের পঠনপাঠন একদা গভীর অভিনিবেশ সহকারে করেছিলাম বলেই পবিত্র কুরআন হৃদয়ঙ্গম করা সহজ হয়েছে,”—এই উক্তিটি তার সমগ্র বুদ্ধিবৃত্তিক সফরের এক অনন্য চাবিকাঠি। তার প্রবন্ধগুলো কেবল মতামতের সমষ্টি নয়, বরং এক দীর্ঘ অনুসন্ধানী বুদ্ধিজীবীর আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মরূপের প্রতিফলন।
‘দ্রোহের কবি আল মাহমুদ’ বইয়ের কাজ করার সময় তার প্রবন্ধসাহিত্যে প্রবেশ করে লেখক অনুভব করেন যে, কবিকে বুঝতে হলে তার গদ্য এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আল মাহমুদের বহু প্রবন্ধ লেখককে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। সম্প্রতি মুহিম মাহফুজ সম্পাদিত ‘বাঙালি মুসলমানের শত্রুমিত্র’ বইটি নতুন বাস্তবতায় নতুন করে পাঠ করার আহ্বান জানায়। এই সংকলনটি বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।
‘বাঙালি মুসলমানের শত্রুমিত্র’ বইটির উপশিরোনাম—‘সাংস্কৃতিক স্বৈরাচার মোকাবেলায় নির্বাচিত প্রবন্ধ’—বইটির প্রকৃতি সম্পর্কে শুরুতেই স্পষ্ট ধারণা দেয়। এটি বিচ্ছিন্ন প্রবন্ধের সমাবেশ নয়, বরং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলমান একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মোকাবিলার দলিল। ৭৮টি প্রবন্ধের প্রত্যেকটির বিষয়ভিত্তিক স্বতন্ত্র আলোচনা একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থের জন্ম দিতে পারে। তাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সংকলনের সামগ্রিক পরিচিতি ও তাৎপর্য অনুধাবন করা। চার দশক ধরে আল মাহমুদ সাংস্কৃতিক স্বৈরাচার, বুদ্ধিবৃত্তিক একচেটিয়াকরণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত পরিচয়কে প্রান্তিক করে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে কলম ধরেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























