ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থের মূল্য দিচ্ছে অঞ্চলটি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ড. সানিয়া ফয়সাল আল-হুসেইনি এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরাইলের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আগের প্রশাসনগুলোকে এই সংঘাতে জড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইল যে ট্রাম্প প্রশাসনকে এতে টেনে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, তা তারা কখনোই গোপন করেনি। তখন থেকেই এই যুদ্ধের প্রভাব এবং এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিণাম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভোগ করতে হচ্ছে। আঞ্চলিক সম্পর্ক, বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কিংবা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতাসহ সব ক্ষেত্রেই এর বিরূপ প্রভাব এখন দৃশ্যমান।

ট্রাম্প আগে থেকেই একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই তিনি প্রথাগত রাজনীতি ও কূটনীতির ওপর নির্ভর করার চেয়ে চুক্তি স্বাক্ষর এবং সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মুনাফা করায় অনেক বেশি দক্ষ। এসব বিষয়ের সংমিশ্রণ যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আনে, তা হলো—যুদ্ধের সময় ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কি শুধু রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত ছিল? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করে তার ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সেসব সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে?

ইরানে হামলা বা দেশটির সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি তেলের দাম ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বারবার বাড়িয়েছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বিমান সংস্থা, পরিবহন কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার সূচকের ওপর। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ জ্বালানি খাতের শেয়ারের দর কমালেও অন্যান্য খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বাড়িয়েছে। আর শেয়ারবাজারের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত।

ট্রাম্প তার আগের প্রেসিডেন্টদের দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে প্রথা মেনে চলতেন, তিনি সেটিও অনুসরণ করেননি। তার প্রথম মেয়াদের শুরুতে ‘অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিক্স’ (সরকারি নৈতিকতাবিষয়ক দপ্তর) সুপারিশ করেছিল, ট্রাম্প যেন তার এমন সব আর্থিক স্বার্থ থেকে দূরে থাকেন, যা তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৭৮ সালের ‘এথিক্স ইন গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’র (সরকারি নৈতিকতা আইন) আওতায় প্রেসিডেন্টদের তাদের আর্থিক স্বার্থ ও লেনদেনের বিবরণ প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এই আইন চালু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী সাতজন প্রেসিডেন্ট হয় তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন, অথবা সেগুলো একটি ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’র (এমন ট্রাস্ট যেখানে সম্পদ ব্যবস্থাপক স্বাধীনভাবে কাজ করেন) অধীনে রেখেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থের মূল্য দিচ্ছে অঞ্চলটি

আপডেট সময় : ১১:২৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ড. সানিয়া ফয়সাল আল-হুসেইনি এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরাইলের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আগের প্রশাসনগুলোকে এই সংঘাতে জড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইল যে ট্রাম্প প্রশাসনকে এতে টেনে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, তা তারা কখনোই গোপন করেনি। তখন থেকেই এই যুদ্ধের প্রভাব এবং এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিণাম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভোগ করতে হচ্ছে। আঞ্চলিক সম্পর্ক, বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কিংবা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতাসহ সব ক্ষেত্রেই এর বিরূপ প্রভাব এখন দৃশ্যমান।

ট্রাম্প আগে থেকেই একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই তিনি প্রথাগত রাজনীতি ও কূটনীতির ওপর নির্ভর করার চেয়ে চুক্তি স্বাক্ষর এবং সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক মুনাফা করায় অনেক বেশি দক্ষ। এসব বিষয়ের সংমিশ্রণ যে মৌলিক প্রশ্নটি সামনে আনে, তা হলো—যুদ্ধের সময় ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কি শুধু রাজনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত ছিল? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করে তার ব্যক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সেসব সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে?

ইরানে হামলা বা দেশটির সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি তেলের দাম ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বারবার বাড়িয়েছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বিমান সংস্থা, পরিবহন কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার সূচকের ওপর। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ও ইরানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ জ্বালানি খাতের শেয়ারের দর কমালেও অন্যান্য খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বাড়িয়েছে। আর শেয়ারবাজারের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত।

ট্রাম্প তার আগের প্রেসিডেন্টদের দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে প্রথা মেনে চলতেন, তিনি সেটিও অনুসরণ করেননি। তার প্রথম মেয়াদের শুরুতে ‘অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিক্স’ (সরকারি নৈতিকতাবিষয়ক দপ্তর) সুপারিশ করেছিল, ট্রাম্প যেন তার এমন সব আর্থিক স্বার্থ থেকে দূরে থাকেন, যা তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ১৯৭৮ সালের ‘এথিক্স ইন গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’র (সরকারি নৈতিকতা আইন) আওতায় প্রেসিডেন্টদের তাদের আর্থিক স্বার্থ ও লেনদেনের বিবরণ প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এই আইন চালু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী সাতজন প্রেসিডেন্ট হয় তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন, অথবা সেগুলো একটি ‘ব্লাইন্ড ট্রাস্ট’র (এমন ট্রাস্ট যেখানে সম্পদ ব্যবস্থাপক স্বাধীনভাবে কাজ করেন) অধীনে রেখেছিলেন।