ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের উদ্যোগ

প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পথ খুঁজছে পাকিস্তান। চীনের উদ্যোগে এই নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির ইসলামাবাদ সফরকালে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোমেনি পাকিস্তানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে আলোচনা শুরুর পথে এখনও বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হলেও পাকিস্তানের অবস্থান বেশ কঠিন। একদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অন্যদিকে, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। সৌদি আর্থিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরশীল হওয়ায় হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিলে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান চীনেরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান বাণিজ্যপথগুলো সচল রাখতে চায় বেইজিং। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, ‘যুদ্ধ অব্যাহত থাকা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটলে বেইজিংয়ের অন্য বাণিজ্যপথগুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান ও অন্য দেশগুলোর মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা। সম্প্রতি চীন ইরানকে প্রযুক্তি, চিপ তৈরির সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন সুবিধা দিয়ে দেশটির নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পথ খুঁজছে পাকিস্তান। চীনের উদ্যোগে এই নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির ইসলামাবাদ সফরকালে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোমেনি পাকিস্তানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে আলোচনা শুরুর পথে এখনও বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হলেও পাকিস্তানের অবস্থান বেশ কঠিন। একদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অন্যদিকে, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। সৌদি আর্থিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরশীল হওয়ায় হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিলে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান চীনেরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান বাণিজ্যপথগুলো সচল রাখতে চায় বেইজিং। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, ‘যুদ্ধ অব্যাহত থাকা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটলে বেইজিংয়ের অন্য বাণিজ্যপথগুলোও ঝুঁকিতে পড়বে।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান ও অন্য দেশগুলোর মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির তেলের প্রধান ক্রেতা। সম্প্রতি চীন ইরানকে প্রযুক্তি, চিপ তৈরির সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন সুবিধা দিয়ে দেশটির নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।