ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ই-কমার্স খাত গভীর সংকটে: আস্থা হারানো, বিনিয়োগ হ্রাস ও উচ্চ পরিচালন ব্যয় স্থবিরতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

দেশের ই-কমার্স খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠান, গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার অভাব, বিনিয়োগ কমে যাওয়া, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এক সময় দ্রুত প্রসার লাভ করা এই খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগত অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং প্রতারণামূলক ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব এখনো বাজারে বিদ্যমান। এর ফলে বাজার সংকুচিত হয়ে আসায় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই, কার্যক্রম সীমিত করা অথবা সম্পূর্ণরূপে ব্যবসা বন্ধ করার পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, কার্যকর নীতি সহায়তা, স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা, গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। অন্যথায়, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্প দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার ঝুঁকিতে পড়বে।

গত কয়েক মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম সংকোচন এবং ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়ে ডেলিভারি হাব বন্ধের খবর পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতা, মার্চেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

একাধিক কারণে এই খাত আজ সংকটের মুখোমুখি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে ডলারের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্য ডেলিভারি ও লজিস্টিক খরচ বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের বিলাসবহুল বা শৌখিন পণ্য কেনাকাটার প্রবণতা কমেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ই-কমার্স খাতে বিনিয়োগ কমে আসায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ভিড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে। ডিজিটাল প্রতারণা ও গ্রাহকের আস্থাহীনতাও এর পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।

চীনা জায়ান্ট আলীবাবা গ্রুপের অধিভুক্ত হওয়া ‘দারাজ’ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এরপর দ্রুত প্রসার লাভ করে। করোনা মহামারির সময় দেশজুড়ে এটি একচেটিয়া ব্যবসা করে। ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই দাম্ভিক হয়ে ওঠে এবং একসময় মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সঙ্গেও এটি প্রদর্শন করতে থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

ই-কমার্স খাত গভীর সংকটে: আস্থা হারানো, বিনিয়োগ হ্রাস ও উচ্চ পরিচালন ব্যয় স্থবিরতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দেশের ই-কমার্স খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠান, গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার অভাব, বিনিয়োগ কমে যাওয়া, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং তীব্র প্রতিযোগিতার ফলে এই খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এক সময় দ্রুত প্রসার লাভ করা এই খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিগত অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং প্রতারণামূলক ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব এখনো বাজারে বিদ্যমান। এর ফলে বাজার সংকুচিত হয়ে আসায় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই, কার্যক্রম সীমিত করা অথবা সম্পূর্ণরূপে ব্যবসা বন্ধ করার পথে হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, কার্যকর নীতি সহায়তা, স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা, গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা গেলে এই খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। অন্যথায়, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্প দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার ঝুঁকিতে পড়বে।

গত কয়েক মাসে দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজসহ বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম সংকোচন এবং ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়ে ডেলিভারি হাব বন্ধের খবর পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতা, মার্চেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

একাধিক কারণে এই খাত আজ সংকটের মুখোমুখি বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে ডলারের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্য ডেলিভারি ও লজিস্টিক খরচ বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের বিলাসবহুল বা শৌখিন পণ্য কেনাকাটার প্রবণতা কমেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ই-কমার্স খাতে বিনিয়োগ কমে আসায় সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার ভিড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে। ডিজিটাল প্রতারণা ও গ্রাহকের আস্থাহীনতাও এর পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।

চীনা জায়ান্ট আলীবাবা গ্রুপের অধিভুক্ত হওয়া ‘দারাজ’ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এরপর দ্রুত প্রসার লাভ করে। করোনা মহামারির সময় দেশজুড়ে এটি একচেটিয়া ব্যবসা করে। ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই দাম্ভিক হয়ে ওঠে এবং একসময় মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সঙ্গেও এটি প্রদর্শন করতে থাকে।