ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীতে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও কিছু সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দুর্যোগ কবলিত মানুষদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে বিপদ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতিনিয়ত খবর রাখছেন এবং যেকোনো বিপদে জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমীন জানান, পানিবন্দি মানুষগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছনুয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রায় পাঁচশ জনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং বানভাসি মানুষের মধ্যে মোট সাড়ে ২৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।

পূর্ব বাঁশখালীর অন্তত ২০টি ছড়া-খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকায় এবং অপরিকল্পিত পানি প্রবাহের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের, পুকুর এবং গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় খানখানাবাদ এলাকায় বেড়িবাঁধের একাংশ ধসে পড়েছে এবং পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের শঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, গন্ডামারা, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া, খানখানাবাদ, রায়ছটা, প্রেমাশিয়া, রোসাংগীরি পাড়া এবং পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি, কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে, আবার কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে আউশ ধানের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ায় মৎস্য চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ২

বাঁশখালীতে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট

আপডেট সময় : ০৮:১৩:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। অধিকাংশ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও কিছু সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দুর্যোগ কবলিত মানুষদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে বিপদ মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, সংসদ অধিবেশন চলমান থাকায় তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতিনিয়ত খবর রাখছেন এবং যেকোনো বিপদে জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমীন জানান, পানিবন্দি মানুষগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরে রাখা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছনুয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রায় পাঁচশ জনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং বানভাসি মানুষের মধ্যে মোট সাড়ে ২৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।

পূর্ব বাঁশখালীর অন্তত ২০টি ছড়া-খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকায় এবং অপরিকল্পিত পানি প্রবাহের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের, পুকুর এবং গ্রামীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় খানখানাবাদ এলাকায় বেড়িবাঁধের একাংশ ধসে পড়েছে এবং পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের শঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শীলকূপ, সরল, গন্ডামারা, কাথারিয়া, বাহারছড়া, পুকুরিয়া, খানখানাবাদ, রায়ছটা, প্রেমাশিয়া, রোসাংগীরি পাড়া এবং পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোমরসমান পানি, কোথাও গ্রামীণ সড়ক ভেঙে গেছে, আবার কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে আউশ ধানের বীজতলা, মৌসুমি সবজির ক্ষেত এবং বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ায় মৎস্য চাষিরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।