ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের নতুন রেকর্ড

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মোট ২২ লাখ ৬২ হাজার ২৪৮ টন চাল ও গম মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ২২ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুতের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল, যা এবার অতিক্রম করেছে। সরকারি মজুত ভাণ্ডারে বর্তমানে ১৮ লাখ ৫ হাজার ১৮৯ টন চাল, ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৬১ টন ধান এবং ৩ লাখ ৩০ হাজার ২০৫ টন গম সংরক্ষিত আছে। চালের এই মজুত পরিমাণ দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের গতি গত বছরগুলোর তুলনায় অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, বোরো সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর এই মজুতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে গুদামে নতুন শস্য রাখার জায়গা এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তার সংকট দেখা দিলেও এটিকে ইতিবাচক সমস্যা হিসেবেই দেখছে অধিদপ্তর। এই মজুতের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারদর স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বর্তমানে নতুন করে কোনো চাল আমদানির প্রয়োজনও পড়ছে না, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার দৃঢ়তাকে প্রমাণ করে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, যেকোনো দেশের সরকারের জন্য আপদকালীন মজুত হিসেবে কমপক্ষে সাড়ে ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা আবশ্যক। সেই তুলনায় বর্তমানে সাড়ে ২২ লাখ টন মজুত অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি অর্জন। তিনি আরও বলেন, দেশে বোরো উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকের ঘরেও পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে, যার ফলে বাজারে কোনো হাহাকার নেই। সরকারি মজুত সন্তোষজনক হওয়ার কারণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও বিপণন কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে সরকার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। আমদানির প্রয়োজনীয়তা না থাকায় এই ব্যবস্থা আগামী আমন মৌসুম পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৪ কোটি ১১ লাখ টন হলেও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত। তবে গমের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারিভাবে চাল ও গম আমদানির সংস্থান রাখা হলেও বর্তমানে প্রচুর দেশীয় মজুত থাকায় বাজার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেক কমেছে। সরকারি গুদামে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতেও দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের নতুন রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৩:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মোট ২২ লাখ ৬২ হাজার ২৪৮ টন চাল ও গম মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ২২ লাখ ৪৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুতের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ছিল, যা এবার অতিক্রম করেছে। সরকারি মজুত ভাণ্ডারে বর্তমানে ১৮ লাখ ৫ হাজার ১৮৯ টন চাল, ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৬১ টন ধান এবং ৩ লাখ ৩০ হাজার ২০৫ টন গম সংরক্ষিত আছে। চালের এই মজুত পরিমাণ দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের গতি গত বছরগুলোর তুলনায় অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলমান থাকবে। সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, বোরো সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর এই মজুতের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে গুদামে নতুন শস্য রাখার জায়গা এবং সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তার সংকট দেখা দিলেও এটিকে ইতিবাচক সমস্যা হিসেবেই দেখছে অধিদপ্তর। এই মজুতের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারদর স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি বর্তমানে নতুন করে কোনো চাল আমদানির প্রয়োজনও পড়ছে না, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তার দৃঢ়তাকে প্রমাণ করে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, যেকোনো দেশের সরকারের জন্য আপদকালীন মজুত হিসেবে কমপক্ষে সাড়ে ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা আবশ্যক। সেই তুলনায় বর্তমানে সাড়ে ২২ লাখ টন মজুত অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি অর্জন। তিনি আরও বলেন, দেশে বোরো উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকের ঘরেও পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে, যার ফলে বাজারে কোনো হাহাকার নেই। সরকারি মজুত সন্তোষজনক হওয়ার কারণে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও বিপণন কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে সরকার সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। আমদানির প্রয়োজনীয়তা না থাকায় এই ব্যবস্থা আগামী আমন মৌসুম পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা ৪ কোটি ১১ লাখ টন হলেও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ উদ্বৃত্ত। তবে গমের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারিভাবে চাল ও গম আমদানির সংস্থান রাখা হলেও বর্তমানে প্রচুর দেশীয় মজুত থাকায় বাজার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ অনেক কমেছে। সরকারি গুদামে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতেও দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।