ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করতে দেব না, আন্দোলন আরও বেগবান হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের এই রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই রায় বৃথা যাবে না এবং রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার হবে, পাশাপাশি সংসদেও এর পক্ষে সম্মিলিত কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আমরা এই দেশকে ভালোবাসি এবং কোনো অশুভ শক্তিকে এখানে খেলতে দেব না। আমাদের সকল কার্যক্রম সতর্কতার সাথে পরিচালিত হবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা যথাসময়ে পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা নতুন বা পুরাতন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেব না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সকল গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এতে সভাপতিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রবন্ধ পাঠ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ তুলে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণের উত্তাল ঢেউয়ে সব ভেসে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আইন হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই, তবে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে ‘জুলাই’কে অপমান করার দু:সাহস দেখালে এই যুবসমাজ ও জনতা এখনো ঘুমিয়ে নেই। যারা সশস্ত্র বাহিনীর সামনে খোলা হাতে দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াতে পারে, তারা আজও প্রস্তুত। আমরা ঘুমাইনি, আমরা ঘুমাবো না।

গণভোট নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে জাতীয় সংসদে ‘আত্মস্বীকৃত সাক্ষী’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লজ্জাশরম থাকলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। তবে, ভালো হয়েছে যে জাতি তাদের চিনে ফেলছে এবং এখন আর কোনো ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সংসদে যা বলা হয়, তা কার্যপ্রণালীতে লিপিবদ্ধ হয় এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয়নি, তাই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে রইলো।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল এই সংসদেই দাঁড়িয়ে ‘জুলাই সনদ’কে একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলেছিল, আর এখন এই সংসদেই তারা প্রমাণ করলো যে তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তাদের কাছে তাদের আপন সঙ্গীদের রক্তের কোনো মূল্য নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষায় নকল: মতলব উত্তরে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করতে দেব না, আন্দোলন আরও বেগবান হবে: বিরোধীদলীয় নেতা

আপডেট সময় : ০৭:০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের এই রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই রায় বৃথা যাবে না এবং রাজপথের আন্দোলন আরও জোরদার হবে, পাশাপাশি সংসদেও এর পক্ষে সম্মিলিত কণ্ঠস্বর শোনা যাবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আমরা এই দেশকে ভালোবাসি এবং কোনো অশুভ শক্তিকে এখানে খেলতে দেব না। আমাদের সকল কার্যক্রম সতর্কতার সাথে পরিচালিত হবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা যথাসময়ে পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা নতুন বা পুরাতন কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ মেনে নেব না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সকল গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এতে সভাপতিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রবন্ধ পাঠ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ নিয়ে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ তুলে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যথায় জনগণের উত্তাল ঢেউয়ে সব ভেসে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আইন হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই, তবে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে ‘জুলাই’কে অপমান করার দু:সাহস দেখালে এই যুবসমাজ ও জনতা এখনো ঘুমিয়ে নেই। যারা সশস্ত্র বাহিনীর সামনে খোলা হাতে দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াতে পারে, তারা আজও প্রস্তুত। আমরা ঘুমাইনি, আমরা ঘুমাবো না।

গণভোট নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে জাতীয় সংসদে ‘আত্মস্বীকৃত সাক্ষী’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লজ্জাশরম থাকলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। তবে, ভালো হয়েছে যে জাতি তাদের চিনে ফেলছে এবং এখন আর কোনো ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সংসদে যা বলা হয়, তা কার্যপ্রণালীতে লিপিবদ্ধ হয় এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয়নি, তাই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে রইলো।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল এই সংসদেই দাঁড়িয়ে ‘জুলাই সনদ’কে একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলেছিল, আর এখন এই সংসদেই তারা প্রমাণ করলো যে তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তাদের কাছে তাদের আপন সঙ্গীদের রক্তের কোনো মূল্য নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।