নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে বাবার পরিচয় পেয়েছে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া এক শিশু। এই মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বিধবা ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসামি হেলাল। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং একই বছরের ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
ধর্ষণের ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, শিশুটির জৈবিক পিতা হেলাল। মামলা চলাকালেই ভুক্তভোগী নারী মারা যান। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুটি আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পিতৃপরিচয় ও ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে আসছিল।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ায় সে হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, শিশুটি তার পিতার সম্পত্তির পাশাপাশি অন্যান্য আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























