ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

রংপুর জেলা পরিষদে উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য: প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জে অর্ধেকের বেশি প্রকল্প

রংপুর জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৪টিই বরাদ্দ পেয়েছে প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জ। অথচ জেলার বাকি সাতটি উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৩টি প্রকল্প। এই অসম বন্টন নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার ঝড় বইছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অর্থবছরে সাশ্রয় হওয়া প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে চলতি বছর ১২৭টি প্রকল্প টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৬৪টি প্রকল্পই পীরগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বদরগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ১টি, মিঠাপুকুরে ৬টি, কাউনিয়ায় ১১টি, গঙ্গাচড়ায় ৮টি, পীরগাছায় ১৩টি, তারাগঞ্জে ৬টি, সদর উপজেলায় ৬টি এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১২টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলায় উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট উপজেলাকে অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুষম বন্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং এলাকার বাস্তব পরিস্থিতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তার নিজ উপজেলাতেই বেশিরভাগ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক বলেন, জেলা পরিষদে সাইফুল সাহেব প্রশাসক হওয়ার পর থেকেই দলীয় লোকজনের মাধ্যমে অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন। অন্যান্য উপজেলায় নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে নিজ উপজেলায় একচেটিয়া বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রশাসকের চেয়ারে থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, এটি রিপোর্টের কোনো বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আক্তার হোসেন নিজের এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন। সজব ভূঁইয়া ৩০০ কোটি নি… (বাকি অংশ অসম্পূর্ণ)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বর্ষণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সাজেকে আটকা সাড়ে চারশ পর্যটক

রংপুর জেলা পরিষদে উন্নয়ন বরাদ্দে চরম বৈষম্য: প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জে অর্ধেকের বেশি প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

রংপুর জেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৪টিই বরাদ্দ পেয়েছে প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জ। অথচ জেলার বাকি সাতটি উপজেলা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৩টি প্রকল্প। এই অসম বন্টন নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার ঝড় বইছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন অর্থবছরে সাশ্রয় হওয়া প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে চলতি বছর ১২৭টি প্রকল্প টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৬৪টি প্রকল্পই পীরগঞ্জ উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বদরগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ১টি, মিঠাপুকুরে ৬টি, কাউনিয়ায় ১১টি, গঙ্গাচড়ায় ৮টি, পীরগাছায় ১৩টি, তারাগঞ্জে ৬টি, সদর উপজেলায় ৬টি এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১২টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলায় উন্নয়নের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও একটি নির্দিষ্ট উপজেলাকে অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুষম বন্টন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা এবং এলাকার বাস্তব পরিস্থিতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তার নিজ উপজেলাতেই বেশিরভাগ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক বলেন, জেলা পরিষদে সাইফুল সাহেব প্রশাসক হওয়ার পর থেকেই দলীয় লোকজনের মাধ্যমে অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন। অন্যান্য উপজেলায় নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে নিজ উপজেলায় একচেটিয়া বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রশাসকের চেয়ারে থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, এটি রিপোর্টের কোনো বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আক্তার হোসেন নিজের এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন। সজব ভূঁইয়া ৩০০ কোটি নি… (বাকি অংশ অসম্পূর্ণ)।