ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আট ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগীর সংখ্যা বেশি থাকলেও, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। শুধু তাই নয়, নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও ওষুধ বা ফগার মেশিন প্রয়োগ করা হয়নি।

যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। কিট ও বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা রাখেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ জন, ৪ জুলাই ১৩ জন এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ১৩১ জন এবং জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী। এ বছরের জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার পাঁচ মাস: তৃণমূল ও কেন্দ্রে বিএনপির সাংগঠনিক জড়তা কাটাতে কাউন্সিলের অপেক্ষা

চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, আট ওয়ার্ড উচ্চ ঝুঁকিতে

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরের শুরুতে শহরে রোগীর সংখ্যা বেশি থাকলেও, বর্ষা মৌসুমের শুরুতে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। শুধু তাই নয়, নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এসব এলাকার প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লাফিয়ে বাড়তে থাকা ডেঙ্গু আক্রান্তের হার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডেঙ্গু নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। মশার উপদ্রব বাড়লেও এলাকাভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগের হার বাড়েনি। কোনো কোনো এলাকায় এক মাসেও ওষুধ বা ফগার মেশিন প্রয়োগ করা হয়নি।

যদিও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চসিক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। কিট ও বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বলছে, সব এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে সময় বুঝে ওষুধ ছিটাতে হয় বলে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা রাখেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি জুলাইয়ের প্রথম দিন ৯ জন আক্রান্ত হন। পরের দিন ১০ জন, ৩ জুলাই ৭ জন, ৪ জুলাই ১৩ জন এবং ৫ জুলাই ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ১৩১ জন এবং জেলায় ১৪৪ জন। বাকি ৮০ জন অন্যান্য জেলার রোগী। এ বছরের জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেই হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের বিগত মাসগুলোর তুলনায় জুলাইয়ের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।