আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২ কোটি বিনামূল্যের নতুন বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিপুল সংখ্যক বই ছাপাতে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজের প্রয়োজন হবে। সময়মতো মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে নির্ধারিত দামে এই কাগজ সরবরাহ করতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে দেশের পেপার মিল মালিকরা। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেপারমিল মালিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানান, পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন যে, এবারের বইগুলো সুন্দরভাবে ও সফলভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হবে। এই লক্ষ্য পূরণে পেপারমিল মালিকরা সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি (প্রিন্টার্স অ্যাগ্রিমেন্ট) করবে, যাতে কোনো চুক্তির ব্যত্যয় না ঘটে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আজকের বৈঠকে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কে কাকে ঠকায়। এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রেস মালিক এবং পেপার মালিকদের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সেজন্যই আমরা সরাসরি পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দাম না বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা সময়মতো বই দিতে পারব বলে আশা করছি।
এ সময় শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) মাধ্যমে প্রায় ৩২ কোটির মতো বই ছাপাবে, যার জন্য প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন কাগজের প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং প্রেস মালিকরা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করছেন। প্রেস মালিকরা যাতে সময়মতো কাগজ পান, তাদের সহযোগিতা করতেই আজকের এই বৈঠক। পেপার মালিকরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫৫ হাজার মেট্রিকটন কাগজ তারা সরবরাহ করতে সক্ষম।
সচিব আরও জানান, বই ছাপার প্রধান স্টেকহোল্ডার হলেন প্রেস মালিক এবং পেপার মিল মালিকরা। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এনসিটিবি এই পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছে। এটিই প্রথমবার যে আমরা সরাসরি পেপার মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রেস মালিকদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের সিইও ও ডিএমডি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সঠিক সময়ে যাতে বাজার দর অনুযায়ী চাহিদামতো কাগজ দিতে পারি, সে বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত করেছি। আমরা এনসিটিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করবো এবং আগের বছরগুলোর মতো যাতে কোনো সমস্যা আর না হয়, সে ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
রিপোর্টারের নাম 





















