ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক বাজেট ও অর্থনৈতিক দর্শন

একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হলো তার সুপরিকল্পিত বাজেট ও টেকসই অর্থনৈতিক নীতিমালা। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় বাজেট মানেই যখন সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি, তখন আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ইসলামের প্রদর্শিত বাজেটনীতি একটি বৈপ্লবিক ও মানবিক বিকল্প হিসেবে গণ্য হয়। ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দারিদ্র্য বিমোচন, যাতে সম্পদ কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না থাকে।

মদিনা রাষ্ট্রে মহানবী (সা.)-এর প্রবর্তিত বাজেটনীতি ছিল সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ও উৎপাদনমুখী। সেখানে কোনো ঘাটতি বাজেট বা বৈদেশিক ঋণের বোঝা ছিল না। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে জাকাত ও ওশর সংগ্রহের মাধ্যমে তা সরাসরি সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হতো। এটি সমাজে অর্থের প্রবাহ সচল রাখত এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করত।

ইসলামি অর্থনীতিতে বাজেটকে মূলত তিনটি প্রধান তহবিলে ভাগ করা হয়। প্রথমত, জাকাত ও ওশর তহবিল যা কেবল দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট। দ্বিতীয়ত, খনিজ সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় ভূমি থেকে অর্জিত আয়ের গণ-মালিকানাধীন তহবিল, যা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। তৃতীয়ত, জরুরি বা আপৎকালীন তহবিল যা বিশেষ সংকটের সময় ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবস্থা কেবল একটি অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, বরং সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে ২ কোটি মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক বাজেট ও অর্থনৈতিক দর্শন

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হলো তার সুপরিকল্পিত বাজেট ও টেকসই অর্থনৈতিক নীতিমালা। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় বাজেট মানেই যখন সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি, তখন আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ইসলামের প্রদর্শিত বাজেটনীতি একটি বৈপ্লবিক ও মানবিক বিকল্প হিসেবে গণ্য হয়। ইসলামের অর্থনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দারিদ্র্য বিমোচন, যাতে সম্পদ কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না থাকে।

মদিনা রাষ্ট্রে মহানবী (সা.)-এর প্রবর্তিত বাজেটনীতি ছিল সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ও উৎপাদনমুখী। সেখানে কোনো ঘাটতি বাজেট বা বৈদেশিক ঋণের বোঝা ছিল না। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে জাকাত ও ওশর সংগ্রহের মাধ্যমে তা সরাসরি সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হতো। এটি সমাজে অর্থের প্রবাহ সচল রাখত এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করত।

ইসলামি অর্থনীতিতে বাজেটকে মূলত তিনটি প্রধান তহবিলে ভাগ করা হয়। প্রথমত, জাকাত ও ওশর তহবিল যা কেবল দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট। দ্বিতীয়ত, খনিজ সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় ভূমি থেকে অর্জিত আয়ের গণ-মালিকানাধীন তহবিল, যা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। তৃতীয়ত, জরুরি বা আপৎকালীন তহবিল যা বিশেষ সংকটের সময় ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবস্থা কেবল একটি অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, বরং সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।