বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান—প্রতিটি গণআন্দোলনই ছিল এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। অগণিত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ভূখণ্ডের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। একটি আদর্শ ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র তখনই গড়ে ওঠে, যখন সেখানে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সেই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা।
রাজনীতিবিদদের জন্য নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি কেবল কথার কথা হওয়া উচিত নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। মনে রাখতে হবে, দেশ কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; বরং সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক মাত্র। যারা জনসেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে আসেন, তাদের আচরণ ও মানসিকতায় আগে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।
রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যেমন কাবিখা, টিআর বা এডিবি’র সুফল যেন প্রকৃত গরিব মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রকল্পের গুণগত মান যাচাইয়ে কোনো প্রকার আপস করা চলবে না। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























