দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে পুনঃতফসিলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও বাস্তবে এর সুফল মিলছে না। বরং পুনঃতফসিল করা ঋণের একটি বড় অংশই পুনরায় খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই দখল করে আছে শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত বছর পুনঃতফসিল করা ঋণের মধ্যে শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৯.৫৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত, যার পরিমাণ ১৭.৫৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতের চলতি মূলধন, আমদানি ঋণ এবং বাণিজ্যিক ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও পুনঃতফসিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিপুল ঋণ নিয়েছে, যা পরবর্তীতে পরিশোধ না করে পুনঃতফসিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের শর্ত শিথিল করা এবং ডাউন পেমেন্টের হার কমিয়ে আনার ফলে অনেক সামর্থ্যবান গ্রাহকের মধ্যেও ঋণ পরিশোধে অনীহা তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে পুনঃতফসিল করা ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই আবার খেলাপির খাতায় নাম লেখাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























