ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে ফাটল: নেপথ্যে ইরান সংকট ও নাবিক নিহতের ঘটনা

ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত ১২ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিওকে ফোন করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। ৯ জুনের ওই ঘটনায় পালাউয়ের পতাকাধারী ‘সেত্তেবেলো’ ট্যাংকারে থাকা ভারতীয় নাবিকরা প্রাণ হারান। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি ইরান-সংশ্লিষ্ট অবরোধ অমান্য করেছিল।

এই ঘটনার পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে মার্কো রুবিওর অবস্থান ছিল অনমনীয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী তাদের নৌনিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় কোনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি ওয়াশিংটন, যা নয়াদিল্লিকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাসও পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও ট্রাম্প মোদির প্রশংসা করেছেন, তবে নাবিক নিহতের ঘটনা বা ‘কোয়াড’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তিনি এড়িয়ে গেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইরে থেকে সম্পর্কটি মজবুত মনে হলেও ভেতরে বিশ্বাসের জায়গাটিতে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে, যার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাবিতে ছাত্রীদের ছবি তোলার অভিযোগ: মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন যুবদল নেতা

ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে ফাটল: নেপথ্যে ইরান সংকট ও নাবিক নিহতের ঘটনা

আপডেট সময় : ১২:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত ১২ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিওকে ফোন করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। ৯ জুনের ওই ঘটনায় পালাউয়ের পতাকাধারী ‘সেত্তেবেলো’ ট্যাংকারে থাকা ভারতীয় নাবিকরা প্রাণ হারান। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি ইরান-সংশ্লিষ্ট অবরোধ অমান্য করেছিল।

এই ঘটনার পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে মার্কো রুবিওর অবস্থান ছিল অনমনীয়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী তাদের নৌনিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় কোনো দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি ওয়াশিংটন, যা নয়াদিল্লিকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাসও পাওয়া যায়নি।

কূটনৈতিক এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও ট্রাম্প মোদির প্রশংসা করেছেন, তবে নাবিক নিহতের ঘটনা বা ‘কোয়াড’ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো তিনি এড়িয়ে গেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইরে থেকে সম্পর্কটি মজবুত মনে হলেও ভেতরে বিশ্বাসের জায়গাটিতে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে, যার প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনে পড়তে পারে।