ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। এই বিশাল জনস্রোতের কারণে ইরানের রাজধানী তেহরানের বর্তমান জনসংখ্যা সাময়িকভাবে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই শহরটিতে প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস।
বিগত ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসা আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন। তার এই আকস্মিক মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে। তেহরান প্রশাসন জানিয়েছে, জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনস্রোত সামাল দিতে ইতোমধ্যে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা ও আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সাধারণ মানুষ রোববার বিকেল পর্যন্ত তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কফিনটি একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হবে, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে সবাই শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রস্থান করতে পারেন।
তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ শিয়াদের পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে এবং সেখানে জামকারান মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে খামেনির মরদেহ নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের পর পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, শিয়া বিশ্বে খামেনির প্রভাব ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই বিশেষ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
সবশেষে ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার পবিত্র সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের শোক পালন করা হবে এবং আগামী এক বছর বিভিন্ন স্মরণসভার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করবে ইরান সরকার ও সাধারণ জনগণ।
রিপোর্টারের নাম 





















