হজরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) ও খান জাহান আলী (রহ.)-এর মতো অসংখ্য বুজুর্গ ব্যক্তি এ দেশে ইসলামের আলো ছড়িয়েছিলেন। শিরক ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়াই ছিল তাদের আজীবনের সংগ্রাম। অথচ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাজারে তাদের আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। কবরের পাশে মাদক সেবন, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং ভণ্ড ফকিরদের দৌরাত্ম্য জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কবরে সিজদা করা, মানত করা বা মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা শিরকের পর্যায়ে পড়ে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণির অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে কবরে সিজদা করা বা কবরকে ইবাদতের স্থানে পরিণত করার ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন।
ধর্মীয় বিচ্যুতি ছাড়াও মাজারগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। মাজারের দানবাক্সে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা সঠিক ব্যবহার নেই। খাদেম ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এই অর্থের বড় অংশই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের দানের টাকা জনকল্যাণে ব্যয় না হয়ে সিন্ডিকেটের পকেটে যাওয়াকে চরম নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন আলেম সমাজ।
রিপোর্টারের নাম 

























