চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলে নকআউট পর্বে একের পর এক দাপুটে পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষদের উড়িয়ে দিচ্ছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম, আক্রমণভাগের ভয়ংকর গতি এবং পুরো দলের সমন্বিত খেলা দিদিয়ের দেশমের দলকে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের মতে, এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে থামানোর সামর্থ্য আছে একমাত্র একটি দলেরই, আর সেটি হলো আর্জেন্টিনা।
সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ম্যাচের পর আইটিভিতে বিশ্বকাপ বিশ্লেষণে নেভিল বলেন, বর্তমান ফর্মে ফ্রান্স অন্য সব দলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে থামাতে পারবে এমন দল হিসেবে আমি শুধু আর্জেন্টিনাকেই দেখি। কারণ, তাদের মানসিকতা, লড়াই করার চরিত্র, অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তারা আলাদা।’ আর্জেন্টিনার প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাদের মধ্যে এমন এক ঐক্য আছে, এমন এক প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা আছে, যা ফ্রান্সের সামনে দাঁড়াতে পারে। অন্য কোনো দলে এখন পর্যন্ত সেটা দেখিনি।’
তবে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, পরিস্থিতি বদলাতেও পারে বলে মনে করেন নেভিল। সাবেক এই ইংলিশ ফুটবলারের ভাষ্য, ‘অবশ্যই সামনে আরও অনেক পথ বাকি। ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগাল নিজেদের খেলাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। আশা করি, তারা সেটা করবে।’
এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। গ্রুপ পর্বে সেনেগালকে ৩-১, ইরাককে ৩-০ এবং নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর শেষ বত্রিশে সুইডেনকেও ৩-০ ব্যবধানে বিদায় করেছে তারা। সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে বাড়িয়েছেন। দলের অন্য গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। আক্রমণভাগে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও বারকোলাকে নিয়ে ফ্রান্সের গতি এবং সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
এই আক্রমণভাগের প্রশংসা করে নেভিল বলেন, ‘যে চারজন ম্যাচ শুরু করেছিল, তারা এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ডিফেন্ডারের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, তাদের কীভাবে থামানো যায়, সেটা আমার জানা নেই। তারা অন্য সবার চেয়ে একধাপ এগিয়ে।’ তাঁর মতে, বিশ্বকাপে অন্য দলগুলো যেখানে কষ্ট করে ম্যাচ জিতছে, সেখানে ফ্রান্স সহজেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নেভিল বলেন, ‘এখন যদি তারা বিশ্বকাপ না জেতে, তাহলে সেটাকে নিজেদের ব্যর্থতাই বলতে হবে। কারণ, এই মুহূর্তে তারা অপ্রতিরোধ্য।’
রিপোর্টারের নাম 
























