প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে, আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছেন তারকা ফুটবলার আর্লিং হলান্ড। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে দলকে শেষ ষোলোতে তোলার পর এবার তাদের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এমন এক মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেলেসাওদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে আইভরি কোস্টকে পরাজিত করে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব পেরিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে তারা। দলের জয়সূচক গোলটি আসে হলান্ডের পা থেকে, যিনি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। দুটি জয় নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ গ্রুপ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ফলে তিন ম্যাচেই পাঁচ গোল করে তিনি এখন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষ সারিতে রয়েছেন। তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের—দুজনেরই ছয়টি করে।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ লুকাতে পারেননি ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ২৮ বছর পর আবার নরওয়ে এই পর্যায়ে এসেছে। এটা বিশাল অর্জন, এক কথায় পাগলাটে অনুভূতি। পুরো দেশের মানুষের জন্য এই জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা অনুভব করা যায়। আমার বিশ্বাস, এই সাফল্য নরওয়ের ফুটবলকে বদলে দেবে। মানুষের মধ্যে যে ঐক্য আর উচ্ছ্বাস দেখছি, সেটা হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।’
তবে উদযাপনের মাঝেই সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী রোববার কোয়ার্টার-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগকে বিশেষ কিছু বলেই মনে করছেন হলান্ড। তিনি যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মতো মঞ্চে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা পুরোপুরি অবিশ্বাস্য। এমন ম্যাচ তো ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেছি। তবে এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চাই না। আগে এই অর্জনটা উদযাপন করতে চাই। আমাদের এই যাত্রাটাই এখন পর্যন্ত অবিশ্বাস্য।’
১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপে ফিরেই নতুন ইতিহাস লিখছে নরওয়ে। আর সেই গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্র এখন হলান্ড। সামনে ব্রাজিল—বিশ্ব ফুটবলের এক পরাশক্তি। সেই মহারণে নরওয়ের স্বপ্ন কতদূর যায়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
রিপোর্টারের নাম 






















