ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাবিতে শহিদ ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিবেদিতপ্রাণ শহিদ শরীফ ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ‘স্পিক উইথ রিবেল প্রডাকশন’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে ‘কলম, সংস্কৃতি ও সিংহাসন, ক্ষমতার লড়াইয়ে যুগে যুগে সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওসমান হাদির জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ কখনোই আগ্রাসন চায়নি, বরং নিজেদের মতো করে বাঁচতে চেয়েছে। কিন্তু আধিপত্যবাদীরা তাদের এই বেঁচে থাকাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। শত্রুরা জানে কীভাবে দমন করলে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধ্বংস করা যায়। ওসমান হাদি এটি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই আধিপত্যবাদীরা তাকে ভালোভাবে দেখেনি এবং তাকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভারতের মতো দেশ ৫০ থেকে ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। এর খেসারত আমাদের যুগে যুগে দিতে হচ্ছে। তারা নিজেদের মতো করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাজাতে চেয়েছিল। কিন্তু ওসমান হাদি ছিলেন মেধাবী; তিনি ভারতের অপতৎপরতা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণেই তিনি আধিপত্যবাদের শিকার হয়ে নিহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. সালেহ হাসান নকিব বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ওসমান হাদি বেঁচে আছেন। যারা হাদির ভক্ত, তাদের বুঝতে হবে হাদি আসলে কী চেয়েছিলেন। কেবল প্রোফাইলে ছবি পোস্ট করলেই হাদি ভক্ত হওয়া যায় না। হাদির উদ্দেশ্য বা প্রত্যাশা কী ছিল, তা আমাদের সংকীর্ণ মন নিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। তাকে বুঝতে হলে তার মূল লক্ষ্যকে অনুধাবন করতে হবে।

সেমিনারে উপস্থাপক হিসেবে রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক এবং সভাপতি হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানকে হারিয়ে স্বস্তিতে আনচেলত্তি: ‘ধৈর্য হারাইনি, এটাই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স’

রাবিতে শহিদ ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিবেদিতপ্রাণ শহিদ শরীফ ওসমান হাদির ৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ‘স্পিক উইথ রিবেল প্রডাকশন’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে ‘কলম, সংস্কৃতি ও সিংহাসন, ক্ষমতার লড়াইয়ে যুগে যুগে সাংস্কৃতিক রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওসমান হাদির জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ কখনোই আগ্রাসন চায়নি, বরং নিজেদের মতো করে বাঁচতে চেয়েছে। কিন্তু আধিপত্যবাদীরা তাদের এই বেঁচে থাকাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। শত্রুরা জানে কীভাবে দমন করলে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধ্বংস করা যায়। ওসমান হাদি এটি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই আধিপত্যবাদীরা তাকে ভালোভাবে দেখেনি এবং তাকে আমাদের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ভারতের মতো দেশ ৫০ থেকে ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে গ্রাস করতে চেয়েছিল। এর খেসারত আমাদের যুগে যুগে দিতে হচ্ছে। তারা নিজেদের মতো করে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাজাতে চেয়েছিল। কিন্তু ওসমান হাদি ছিলেন মেধাবী; তিনি ভারতের অপতৎপরতা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণেই তিনি আধিপত্যবাদের শিকার হয়ে নিহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. সালেহ হাসান নকিব বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ওসমান হাদি বেঁচে আছেন। যারা হাদির ভক্ত, তাদের বুঝতে হবে হাদি আসলে কী চেয়েছিলেন। কেবল প্রোফাইলে ছবি পোস্ট করলেই হাদি ভক্ত হওয়া যায় না। হাদির উদ্দেশ্য বা প্রত্যাশা কী ছিল, তা আমাদের সংকীর্ণ মন নিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। তাকে বুঝতে হলে তার মূল লক্ষ্যকে অনুধাবন করতে হবে।

সেমিনারে উপস্থাপক হিসেবে রাকসুর সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক উপাচার্য ড. সালেহ হাসান নকিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক এবং সভাপতি হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।