ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

কিম জং উনের মায়ের পরিচয় কেন গোপন? পেকতু বংশধারার আড়ালে জাপানি জন্ম

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই রহস্যে ঘেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা হলো তার মায়ের পরিচয় নিয়ে। গত ১৫ বছর ধরে তিনি ক্ষমতায় থাকলেও প্রকাশ্যে একবারও মায়ের নাম মুখে নেননি। অথচ কিমের শাসন ক্ষমতার বৈধতার অন্যতম ভিত্তি হলো ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশ পরিচয়, যা কোরিয়ান জাতির এক পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার বংশধারা হিসেবে বিবেচিত। উত্তর কোরিয়া এই বংশের পবিত্রতা নিয়ে অত্যন্ত গর্ব করে। তাই কিমের মায়ের আসল পরিচয় কেবল একটি গোপন বিষয় নয়, বরং বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়।

চীন ও উত্তর কোরিয়া সীমান্তে অবস্থিত পেকতু পর্বতকে কোরিয়ার ইতিহাসের সূচনালগ্ন এবং প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের জন্মস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় এই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও প্রচলিত আছে। এমনকি তার ছেলে কিম জং ইলও এই পবিত্র পাহাড়ে জন্মেছেন বলে দাবি করা হয়, যদিও আসল তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম হয়েছিল রাশিয়ায়। গত কয়েক দশক ধরে কিম রাজবংশের শাসন টিকিয়ে রাখতে এই পর্বতের গল্প ব্যবহার করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তার বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, “কিম জং উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তার উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।”

তবে কিম জং উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। তার মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়। জীবনীকারদের তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ। জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’, অর্থাৎ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশ। কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নতুন নিয়োগ: আবেদন ২৬ জুলাই পর্যন্ত

কিম জং উনের মায়ের পরিচয় কেন গোপন? পেকতু বংশধারার আড়ালে জাপানি জন্ম

আপডেট সময় : ০২:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই রহস্যে ঘেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গোপনীয়তা হলো তার মায়ের পরিচয় নিয়ে। গত ১৫ বছর ধরে তিনি ক্ষমতায় থাকলেও প্রকাশ্যে একবারও মায়ের নাম মুখে নেননি। অথচ কিমের শাসন ক্ষমতার বৈধতার অন্যতম ভিত্তি হলো ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশ পরিচয়, যা কোরিয়ান জাতির এক পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার বংশধারা হিসেবে বিবেচিত। উত্তর কোরিয়া এই বংশের পবিত্রতা নিয়ে অত্যন্ত গর্ব করে। তাই কিমের মায়ের আসল পরিচয় কেবল একটি গোপন বিষয় নয়, বরং বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়।

চীন ও উত্তর কোরিয়া সীমান্তে অবস্থিত পেকতু পর্বতকে কোরিয়ার ইতিহাসের সূচনালগ্ন এবং প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের জন্মস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়। উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় এই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও প্রচলিত আছে। এমনকি তার ছেলে কিম জং ইলও এই পবিত্র পাহাড়ে জন্মেছেন বলে দাবি করা হয়, যদিও আসল তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম হয়েছিল রাশিয়ায়। গত কয়েক দশক ধরে কিম রাজবংশের শাসন টিকিয়ে রাখতে এই পর্বতের গল্প ব্যবহার করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তার বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, “কিম জং উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তার উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।”

তবে কিম জং উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। তার মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়। জীবনীকারদের তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ। জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’, অর্থাৎ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশ। কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়।