ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে: নোয়াখালীতে প্রবাসী রানা গ্রেপ্তার

নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে এবং স্ত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিল থেকে সোহেল রানা (৩৬) নামের এক প্রবাসী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার করটখিল গ্রামের বড় বরম বাড়ীর মৃত শফিউল্লাহর ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী শাহানাজ বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চার বছর ধরে প্রবাসে থাকাকালীন সোহেল রানা নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লার কুটুয়ালি এলাকার শাহানাজ বেগমের (৩০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ৫ মে সোহেল রানা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে শাহানাজকে বিয়ে করে তার সঙ্গেই ঘর-সংসার শুরু করে।

তবে, ১৬ মে সন্ধ্যায় সোহেল রানা শাহানাজকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি চাটখিলের করখিলে আসার পর শাহানাজ জানতে পারেন, রানার পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এরপরও শাহানাজ স্বামীর সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে সম্মত হন। কিন্তু সোহেল রানার আগের স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় মাসুদ মেম্বার তাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং শাহানাজকে টেনেহিঁচড়ে রাত সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

নিরুপায় হয়ে শাহানাজ চাটখিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে কুমিল্লায় ফিরে যান। পরবর্তীতে, গত ২ জুন তিনি কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা (জিআর মামলা নং- ৮৯০/২৬ইং) দায়ের করেন। এই মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চাটখিল থানা পুলিশ রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে করটখিল গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শাহানাজ বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই প্রতারক সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা এর আগেও একইভাবে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৮ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে: নোয়াখালীতে প্রবাসী রানা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একাধিক বিয়ে এবং স্ত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগে নোয়াখালীর চাটখিল থেকে সোহেল রানা (৩৬) নামের এক প্রবাসী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার করটখিল গ্রামের বড় বরম বাড়ীর মৃত শফিউল্লাহর ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী শাহানাজ বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চার বছর ধরে প্রবাসে থাকাকালীন সোহেল রানা নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লার কুটুয়ালি এলাকার শাহানাজ বেগমের (৩০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ৫ মে সোহেল রানা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে শাহানাজকে বিয়ে করে তার সঙ্গেই ঘর-সংসার শুরু করে।

তবে, ১৬ মে সন্ধ্যায় সোহেল রানা শাহানাজকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি চাটখিলের করখিলে আসার পর শাহানাজ জানতে পারেন, রানার পূর্বের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এরপরও শাহানাজ স্বামীর সঙ্গে সংসার চালিয়ে যেতে সম্মত হন। কিন্তু সোহেল রানার আগের স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় মাসুদ মেম্বার তাকে মারধর করে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং শাহানাজকে টেনেহিঁচড়ে রাত সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

নিরুপায় হয়ে শাহানাজ চাটখিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে কুমিল্লায় ফিরে যান। পরবর্তীতে, গত ২ জুন তিনি কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতে নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা (জিআর মামলা নং- ৮৯০/২৬ইং) দায়ের করেন। এই মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চাটখিল থানা পুলিশ রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে করটখিল গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শাহানাজ বেগম সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই প্রতারক সোহেল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা এর আগেও একইভাবে একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে।