ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মাগুরায় দম্পতির বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ, ২০ পরিবার দিশেহারা

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা এবং কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের রাজবংশী পাড়ার প্রায় ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে এই অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা থেকে লাপাত্তা রয়েছেন ওই দম্পতি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের হারানো স্বর্ণালংকার ও টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এ বিষয়ে স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অন্তত ২০টি অসহায় পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। সুকৌশলে তারা ঘাসিয়াড়া ব্যাপারিপাড়া গ্রামের আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, রাজবংশী পাড়ার স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শিফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ঝর্না বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রাণীর কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও অলংকার হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু সরাসরি অর্থ আত্মসাৎই নয়, এই দম্পতি স্থানীয় আশা, আদ দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ কয়েকটি এনজিও থেকে অন্যের নামে ঋণ তুলেছেন এবং সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেননি। এতে এনজিওগুলোও মহাবিপদে পড়েছে। যাদের মাধ্যমে ঋণ তোলা হয়েছিল, সেই অসহায় পরিবারগুলো এখন ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে চরম দুর্দশার শিকার। ঋণের চাপ সইতে না পেরে দিপালী বিশ্বাস, ঝর্না বিশ্বাস ও মিতা রাণী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, “স্বরজিৎ রায় আমার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি চাইতে গেলেই সে নানা তালবাহানা শুরু করে। এখন আমার টাকা না দিয়েই সে এলাকা থেকে পালিয়েছে। শুধু আমি নই, আমার মতো আরও অনেকের কাছ থেকে সে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়েছে। আমরা এখন নিরুপায়, আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৮ ফুটের অজগর উদ্ধার, বন বিভাগে হস্তান্তর

মাগুরায় দম্পতির বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ, ২০ পরিবার দিশেহারা

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের স্বরজিৎ রায় ও শিমু রায় দম্পতির বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধকোটি টাকা এবং কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের রাজবংশী পাড়ার প্রায় ২০টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে এই অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নিয়ে গত প্রায় তিন মাস ধরে এলাকা থেকে লাপাত্তা রয়েছেন ওই দম্পতি।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের হারানো স্বর্ণালংকার ও টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। এ বিষয়ে স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অন্তত ২০টি অসহায় পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। সুকৌশলে তারা ঘাসিয়াড়া ব্যাপারিপাড়া গ্রামের আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, রাজবংশী পাড়ার স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শিফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ঝর্না বিশ্বাসের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মিতা রাণীর কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও অলংকার হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুধু সরাসরি অর্থ আত্মসাৎই নয়, এই দম্পতি স্থানীয় আশা, আদ দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ কয়েকটি এনজিও থেকে অন্যের নামে ঋণ তুলেছেন এবং সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেননি। এতে এনজিওগুলোও মহাবিপদে পড়েছে। যাদের মাধ্যমে ঋণ তোলা হয়েছিল, সেই অসহায় পরিবারগুলো এখন ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে চরম দুর্দশার শিকার। ঋণের চাপ সইতে না পেরে দিপালী বিশ্বাস, ঝর্না বিশ্বাস ও মিতা রাণী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, “স্বরজিৎ রায় আমার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি চাইতে গেলেই সে নানা তালবাহানা শুরু করে। এখন আমার টাকা না দিয়েই সে এলাকা থেকে পালিয়েছে। শুধু আমি নই, আমার মতো আরও অনেকের কাছ থেকে সে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়েছে। আমরা এখন নিরুপায়, আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।”