ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার: সংসদে বাজেট আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় ব্যক্তিস্বার্থে অর্থনীতিকে কুচি কুচি করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সংকট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতি সামনে রেখে বাজেট দিতে হয়েছে, তবে এই বাজেটে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার।

সংসদ নেতা বলেন, এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি। যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এ বাজেট দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে অন্য বছরগুলোর মতো এ বছর বাজেটের আগে পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এর মাধ্যমে অর্থনীতির একটি ভিত গড়ে তুলতে চাই। বাজেটের লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব করার বাজেট। অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতির চাকা গতিশীল করা। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চায় সরকার। পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে অর্থনীতিকে সাজাতে চায় সরকার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেইমার আরও বেশি সময় খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার: সংসদে বাজেট আলোচনা

আপডেট সময় : ০২:২৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সময় ব্যক্তিস্বার্থে অর্থনীতিকে কুচি কুচি করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। প্রস্তাবিত এই বাজেটকে তিনি ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সংকট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতি সামনে রেখে বাজেট দিতে হয়েছে, তবে এই বাজেটে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার।

সংসদ নেতা বলেন, এই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য ও কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও জনগণের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি। যদিও আমরা সংসদে যতটা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছি, এর চেয়ে বেশি অতীত নিয়ে কথা বলেছি। তবে জনগণ চায় ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এ বাজেট দিয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে অন্য বছরগুলোর মতো এ বছর বাজেটের আগে পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি। আমরা কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, এবারের বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এর মাধ্যমে অর্থনীতির একটি ভিত গড়ে তুলতে চাই। বাজেটের লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার বোঝা লাঘব করার বাজেট। অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতির চাকা গতিশীল করা। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। জনগণের টাকা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চায় সরকার। পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে অর্থনীতিকে সাজাতে চায় সরকার।