চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জোনাল কার্যালয়ে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সাইফুল আলমকে তার নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনরোষ এবং কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ডিজিএমের ব্যর্থতাকে দায়ী করে তার অপসারণের দাবিতে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জানা যায়, সম্প্রতি ফরিদগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জেরে গত মঙ্গলবার উপজেলার চির্কা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রের দুই কর্মী ইব্রাহিম ও আব্দুল কাদের স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হন। ওই ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
রবিবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা ডিজিএমের নির্দেশে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে মামলার অভিযুক্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান। সেখানে স্থানীয়দের বাধার মুখে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রায় আটজন হামলার শিকার হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কর্মস্থল থেকে ফিরে এসে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা ডিজিএম সাইফুল আলমের অপসারণের দাবিতে তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন। বিক্ষুব্ধ লাইনম্যান মমিনুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মীরা অভিযোগ করেন, অযোগ্য ডিজিএম সাইফুল আলমের ব্যর্থতার কারণে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা বিভিন্ন স্থানে মারধরের শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত তাকে অপসারণ না করা হলে কাজে ফিরবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, ধানুয়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী ও ফিরোজা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও কর্মীরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এসেছিলেন এবং বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। তারা আরও জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, অথচ বাড়তি বিলের চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং অফিসে গিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না।
পরে মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কর্তৃক ডিজিএম সাইফুল আলমকে অপসারণের ঘোষণার পর কর্মচারীরা অবরোধ তুলে নেন।
রিপোর্টারের নাম 























