ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ: চরাঞ্চলের নারী শিক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজটি চরাঞ্চলসহ অবহেলিত এলাকার নারী শিক্ষায় এক বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। গত তিন বছর ধরে শতভাগ পাসের রেকর্ডের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে জেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। শিক্ষকদের একাগ্রতা, ব্যতিক্রমধর্মী পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের ফল উন্নয়নে নেওয়া নানা উদ্যোগ পুরো জেলাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই কলেজটি প্রত্যন্ত পল্লি অঞ্চলে অবস্থিত হয়েও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষাঙ্গনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৬ সালে সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারীতে, যমুনা নদীর কোল ঘেঁষে জেলেপাড়া নামক স্থানে মাত্র ২৩ জন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব মরহুম শাহাদাত হোসেন মণ্ডলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজটি গড়ে ওঠে।

বর্তমানে কলেজটিতে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন ৫৬ জন। ডিগ্রি (পাস) কোর্সে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বিগত দিনে প্রায় প্রতিবারই ৯০ শতাংশের বেশি পাসের হার নিয়ে কলেজটি স্থানীয় লোকজনের আস্থা অর্জন করেছে, যা চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়ে জাতীয় উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে।

উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজের রয়েছে নিজস্ব ৩ দশমিক ১০ একর জমির ওপর নির্মিত আধুনিক অবকাঠামো। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে সুসজ্জিত লাইব্রেরি, বিজ্ঞান গবেষণাগার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য স্বল্পমূল্যের ক্যান্টিন। মাত্র ২০ টাকায় দুপুরের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা চরাঞ্চলের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে।

কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, অত্র এলাকায় নারী শিক্ষা উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গল্পের আসর, রোভার স্কাউট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা: সত্য ও মিথ্যার এক অসম লড়াইয়ের ইতিহাস

গাইবান্ধার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ: চরাঞ্চলের নারী শিক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ০১:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজটি চরাঞ্চলসহ অবহেলিত এলাকার নারী শিক্ষায় এক বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। গত তিন বছর ধরে শতভাগ পাসের রেকর্ডের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করে জেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। শিক্ষকদের একাগ্রতা, ব্যতিক্রমধর্মী পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের ফল উন্নয়নে নেওয়া নানা উদ্যোগ পুরো জেলাজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই কলেজটি প্রত্যন্ত পল্লি অঞ্চলে অবস্থিত হয়েও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় শিক্ষাঙ্গনের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ১৯৯৬ সালে সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারীতে, যমুনা নদীর কোল ঘেঁষে জেলেপাড়া নামক স্থানে মাত্র ২৩ জন নারী শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব মরহুম শাহাদাত হোসেন মণ্ডলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজটি গড়ে ওঠে।

বর্তমানে কলেজটিতে ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন ৫৬ জন। ডিগ্রি (পাস) কোর্সে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বিগত দিনে প্রায় প্রতিবারই ৯০ শতাংশের বেশি পাসের হার নিয়ে কলেজটি স্থানীয় লোকজনের আস্থা অর্জন করেছে, যা চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়ে জাতীয় উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে।

উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজের রয়েছে নিজস্ব ৩ দশমিক ১০ একর জমির ওপর নির্মিত আধুনিক অবকাঠামো। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে সুসজ্জিত লাইব্রেরি, বিজ্ঞান গবেষণাগার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য স্বল্পমূল্যের ক্যান্টিন। মাত্র ২০ টাকায় দুপুরের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা চরাঞ্চলের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে।

কলেজটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, অত্র এলাকায় নারী শিক্ষা উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গল্পের আসর, রোভার স্কাউট, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়তা করছে।