ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

মহররম ও আশুরার প্রকৃত শিক্ষা: বর্জনীয় কুসংস্কার ও অপরিহার্য আমল

হিজরি নববর্ষের সূচনাকারী মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মোপলব্ধি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং ইবাদতের সঙ্গে মহররম মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক স্থানে এই মাসকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতা চালু হয়েছে, যা কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য মহররমের প্রকৃত তাৎপর্য জানা এবং সুন্নাহভিত্তিক আমল করা অপরিহার্য।

হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা এ মাসের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ। এ মাসের অন্যতম প্রস্তুতি হওয়া উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা।

মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি বহু তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনার সাক্ষী। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালা এ দিনে নবী মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা পালন করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এ রোজা পালনের নির্দেশ দেন।

তবে দুঃখের বিষয়, মহররম মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের কিছু অংশে নানা ধরনের বিদআত ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। কারবালার বেদনাবিধুর ঘটনাকে স্মরণ করতে গিয়ে কেউ কেউ বুক চাপড়ানো, মাতম করা, শরীরে আঘাত করা কিংবা রক্ত ঝরানোর মতো কাজ করে থাকেন। অথচ ইসলামে এসবের কোনো অনুমোদন নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (বুখারি : ১২৯৪) তেমনি তাজিয়া মিছিল, আশুরাকে কেন্দ্র করে বিশেষ শোকানুষ্ঠান, নির্দিষ্ট খাবারকে ধর্মীয় আমল মনে করা কিংবা বিশেষ নামাজ ও দোয়ার অনুষ্ঠান উদ্ভাবন করাও সুন্নাহসম্মত নয়। ইসলামে ইবাদতের ভিত্তি হলো কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ। নবী করিম (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারি : ২৬৯৭; মুসলিম : ১৭১৮)

কারবালার ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। কিন্তু এর শিক্ষা কেবল শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রেরণা যোগায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন থেকে ইসরাইলের শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি হিজবুল্লাহ মহাসচিবের

মহররম ও আশুরার প্রকৃত শিক্ষা: বর্জনীয় কুসংস্কার ও অপরিহার্য আমল

আপডেট সময় : ০১:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

হিজরি নববর্ষের সূচনাকারী মাস মহররম মুসলিম উম্মাহর কাছে আত্মোপলব্ধি, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের এক মহামূল্যবান সুযোগ। ইসলামের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং ইবাদতের সঙ্গে মহররম মাসের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক স্থানে এই মাসকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা ও আনুষ্ঠানিকতা চালু হয়েছে, যা কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য মহররমের প্রকৃত তাৎপর্য জানা এবং সুন্নাহভিত্তিক আমল করা অপরিহার্য।

হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা এ মাসের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ। এ মাসের অন্যতম প্রস্তুতি হওয়া উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা।

মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আশুরার রোজা। ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি বহু তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনার সাক্ষী। সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহতায়ালা এ দিনে নবী মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এ উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা পালন করেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও এ রোজা পালনের নির্দেশ দেন।

তবে দুঃখের বিষয়, মহররম মাসকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের কিছু অংশে নানা ধরনের বিদআত ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। কারবালার বেদনাবিধুর ঘটনাকে স্মরণ করতে গিয়ে কেউ কেউ বুক চাপড়ানো, মাতম করা, শরীরে আঘাত করা কিংবা রক্ত ঝরানোর মতো কাজ করে থাকেন। অথচ ইসলামে এসবের কোনো অনুমোদন নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি গালে আঘাত করে, কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি যুগের মতো বিলাপ করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (বুখারি : ১২৯৪) তেমনি তাজিয়া মিছিল, আশুরাকে কেন্দ্র করে বিশেষ শোকানুষ্ঠান, নির্দিষ্ট খাবারকে ধর্মীয় আমল মনে করা কিংবা বিশেষ নামাজ ও দোয়ার অনুষ্ঠান উদ্ভাবন করাও সুন্নাহসম্মত নয়। ইসলামে ইবাদতের ভিত্তি হলো কোরআন ও সহিহ সুন্নাহ। নবী করিম (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” (বুখারি : ২৬৯৭; মুসলিম : ১৭১৮)

কারবালার ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। কিন্তু এর শিক্ষা কেবল শোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সত্যের জন্য ত্যাগ স্বীকার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রেরণা যোগায়।