সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক শহরের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে এমন তিনজন রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হয়েছেন, যারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। এই ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রতি সন্দেহের এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই বিজয় উদার রাজনৈতিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে। ডেমোক্র্যাট ভোটাররা এখন ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্রমশ সমালোচনামূলক হচ্ছেন, যা তাদের পূর্ববর্তী সমর্থনসূচক অবস্থান থেকে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। যদিও এখনো উচ্চপর্যায়ের অনেক ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ ইসরায়েলের সমর্থক; তবে বিভিন্ন পর্যায়ের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন কমছে।
বিজয়ী ব্রাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভ্যালডিজ ও ডারিয়ালিজা আভিলা শ্যাভালিয়ারকে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সমর্থন জানিয়েছিলেন। মামদানির রাজনৈতিক উত্থানই হয়েছে ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলনের সক্রিয়তা থেকে। গত সপ্তাহে প্রার্থীদের নিয়ে এক র্যালিতে তিনি ইসরায়েলি সমর্থকদের সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলো এমন এক ‘দানব’ দলের অংশ, যারা আমেরিকার রাজনীতিতে এখনো প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী।
নিউ ইয়র্কের হারলেমে মঙ্গলবার রাতে যখন আভিলা শ্যাভালিয়ারের বিজয়-পরবর্তী সমাবেশ করা হয়, সেখানে তার সমর্থকরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়েছেন। আভিলা তার ভাষণে স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা স্পষ্ট করেছি, পুরোনো রাজনীতির দিন শেষ হয়ে এসেছে।’
চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের মতামত বদলে দিতে ইসরায়েলপন্থী গ্রুপগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে। আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের সমর্থন দেওয়া ১৮০ জন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলীয় রাজনীতিবিদ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু এই সাফল্য সত্ত্বেও আইপ্যাক অনেকটাই আত্মরক্ষামূলক গতিতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ধারাবাহিকভাবেই কমে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলের বিপরীতে ফিলিস্তিনিদের প্রতিই বেশি সহানুভূতিশীল। এর বিপরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ জানান, তারা ইসরায়েলের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল।
রিপোর্টারের নাম 






















