২০২৩ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রকে ভারত ও আমেরিকার আরাধনা এবং চিন্তাচেতনার মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বয়সে বৃহৎ এবং ভারতকে ব্যাপ্তিতে বৃহৎ গণতন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে লেখক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ তাঁর কলামে প্রশ্ন তুলেছেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বিশ্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চাণক্য পণ্ডিত ও আব্রাহাম লিংকনের বপন করা আদর্শের চর্চা ও প্রয়োগ কোনপর্যায়ে কার্যকর আছে, তা মোদির বক্তৃতায় বিস্তারিত ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব কূটনীতির ক্যানভাসে ভূ-রাজনীতির রঙতুলিতে যে ভবিষ্যৎ পৃথিবী বাঙময় হয়ে উঠবে, তার রূপরেখা দুদেশেরই পক্ষে খোলাসা করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রের ধারণা, এর বিকাশ ও বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যের মধ্যে যে গলদ এবং কার্যকারণে বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে, তা গণতন্ত্র লালনপালনে ‘অন্ধ সমর্থন’ এবং ‘স্যাংশনের ভয়’ দেখানোর সংস্কৃতির মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ‘বিশেষ বিতর্ক’ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শংকর এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের নীতি হবে ‘শুধু’ পূর্বে তাকানো নয়, বরং প্রাচ্যের দেশগুলোয় কার্যকরভাবে করণীয়তে তা রূপান্তর করা হবে। জয়শংকর আরও বলেছিলেন, ভারত এখন থেকে জোটনিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে ‘বিশ্ব মিত্র’র মূল্যবোধে ও দর্শনে আচারী হবে।
একসময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানের ক্ষমতাধর পাঁচ পরাশক্তির কারও বা তাদের মোর্চার মঞ্চের প্রতি না ঝুঁকে বা তাদের ক্রীড়নকে পরিণত না হওয়ার প্রত্যয়ে দীপ্ত হয়েই ভারতের জওহরলাল নেহরু, ইন্দোনেশিয়ার আদম মালিক, যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটো প্রমুখরা জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের যে মঞ্চ তৈরি করেছিলেন, ভারতের ‘বিশ্ব মিত্র’ দর্শন স্বার্থের টানে পাঁচ পরাশক্তির সঙ্গে খাতির জমানোর এই অভিলাসের মধ্যে ভেঙে বা ভেস্তে যেতে বসেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















