ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঢাকা মেডিকেলে উপচে পড়া রোগী, টয়লেটের পাশেও চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই

দেশের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ড ছাড়িয়ে সিঁড়ি, করিডোর এমনকি শৌচাগারের পাশেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শত শত মানুষকে। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে প্রতিটি তলায় রোগীদের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে নিউরো সার্জারি বিভাগের টয়লেটের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চলছে জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম। টয়লেটের দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির মধ্যেই রোগীদের থাকতে হচ্ছে, যা সুস্থ হওয়ার বদলে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। প্রতিটি শয্যার বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয়জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে দিশেহারা অভিভাবকরা। ওয়ার্ডের ভেতরে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব, ভাঙাচোরা বেসিন এবং পানির সংকটে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে দম বন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রতিটি কোণায় রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে প্যাথলজি টেস্ট—সবখানেই দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। পর্যাপ্ত জনবল ও শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও হিমশিম খাচ্ছে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় মানুষগুলো এক বুক আশা নিয়ে এখানে এলেও ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে চীনা বীরদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা মেডিকেলে উপচে পড়া রোগী, টয়লেটের পাশেও চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই

আপডেট সময় : ০৯:১৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দেশের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় ওয়ার্ড ছাড়িয়ে সিঁড়ি, করিডোর এমনকি শৌচাগারের পাশেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শত শত মানুষকে। জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে প্রতিটি তলায় রোগীদের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে নিউরো সার্জারি বিভাগের টয়লেটের পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চলছে জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম। টয়লেটের দুর্গন্ধ আর নোংরা পানির মধ্যেই রোগীদের থাকতে হচ্ছে, যা সুস্থ হওয়ার বদলে নতুন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। প্রতিটি শয্যার বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয়জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। হাম, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে দিশেহারা অভিভাবকরা। ওয়ার্ডের ভেতরে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব, ভাঙাচোরা বেসিন এবং পানির সংকটে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে দম বন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রতিটি কোণায় রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে প্যাথলজি টেস্ট—সবখানেই দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভোগান্তি নিত্যদিনের সঙ্গী। পর্যাপ্ত জনবল ও শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও হিমশিম খাচ্ছে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় মানুষগুলো এক বুক আশা নিয়ে এখানে এলেও ন্যূনতম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ না পেয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন।