ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যমজ কন্যা হওয়ায় বিচ্ছেদ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফের এক হলো পরিবার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় অবহেলার শিকার হওয়া রিনা খাতুনের জীবনে ফিরে এসেছে সুখের আবহ। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপে স্বামী রাকিবুল ইসলাম তার ভুল স্বীকার করে পুনরায় রিনা ও তার দুই কন্যাসন্তানকে ঘরে তুলে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহেশপুর থানায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে আইনি ও ধর্মীয় বিধান মেনে তাদের পুনরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, রিনা খাতুন যমজ কন্যাসন্তান প্রসব করবেন—এমন খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তান জন্মের পর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি, উল্টো পাঠানো হয়েছিল তালাকের নোটিশ। এমনকি শিশুদের বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারকে থানায় তলব করা হলে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের সমঝোতার পর রাকিবুল ইসলাম সসম্মানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেন। মহেশপুর থানার ওসি জানান, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবদম্পতির পরবর্তী জীবনের ওপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে জনপ্রতিনিধিদের অবহেলা: স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করলেন গ্রামবাসী

যমজ কন্যা হওয়ায় বিচ্ছেদ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফের এক হলো পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় অবহেলার শিকার হওয়া রিনা খাতুনের জীবনে ফিরে এসেছে সুখের আবহ। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপে স্বামী রাকিবুল ইসলাম তার ভুল স্বীকার করে পুনরায় রিনা ও তার দুই কন্যাসন্তানকে ঘরে তুলে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহেশপুর থানায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে আইনি ও ধর্মীয় বিধান মেনে তাদের পুনরায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

জানা যায়, রিনা খাতুন যমজ কন্যাসন্তান প্রসব করবেন—এমন খবর জানার পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সন্তান জন্মের পর দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি, উল্টো পাঠানো হয়েছিল তালাকের নোটিশ। এমনকি শিশুদের বিক্রির হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারকে থানায় তলব করা হলে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের সমঝোতার পর রাকিবুল ইসলাম সসম্মানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রহণ করার অঙ্গীকার করেন। মহেশপুর থানার ওসি জানান, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি ভেঙে যাওয়া পরিবারকে রক্ষা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবদম্পতির পরবর্তী জীবনের ওপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।