ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বগুড়া সিটি করপোরেশনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব: পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সীমিত সংখ্যক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বর্জ্য অপসারণে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ভাড়ায় চালিত ১৬টি এবং নিজস্ব দুটি ট্রাক ও একটি লোডার দিয়ে কোনোরকম কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। তিনি শহরতলির দুই পাশে দুটি ডাম্পিং স্টেশন এবং পরিবহন পুলে ২০০ কোটি টাকার ডাম্প ট্রাক ও লোডার চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।

প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো পৌরসভা এলাকায় আজও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে না পারায় বর্জ্যগুলো প্রায়শই লোকালয়ের মাঝেই পড়ে থাকছে। গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিবেশবিদদের মতে, পৌরসভার সক্ষমতার অভাবে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে, যা প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। গত দু’বছর ধরে ২১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতায় বর্জ্য অপসারণ তদারকির গতিও কমে গেছে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী রেজাউল করিম আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না করার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, বড় বাজেটের প্রকল্প ছাড়া এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। অতীতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা এলেও তা নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি। জানা যায়, ২০০৭ সালের আগে প্রতি মহল্লায় ডাস্টবিন থাকলেও পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ভ্যানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন চালু করা হয় এবং মহল্লাভিত্তিক কমিউনিটি বেইজ অর্গানাইজেশন (সিবিও) এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করে ট্রান্সফার স্টেশনে রাখা হতো, যেখান থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ট্রাকে করে ভাগাড়ে ফেলতেন। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়া শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও মিউনিসিপ্যাল সাপোর্ট ইউনিটের আওতায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানের নতুন গোপন সেল গঠন

বগুড়া সিটি করপোরেশনে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব: পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১০:৩৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সীমিত সংখ্যক পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বর্জ্য অপসারণে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ভাড়ায় চালিত ১৬টি এবং নিজস্ব দুটি ট্রাক ও একটি লোডার দিয়ে কোনোরকম কাজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। তিনি শহরতলির দুই পাশে দুটি ডাম্পিং স্টেশন এবং পরিবহন পুলে ২০০ কোটি টাকার ডাম্প ট্রাক ও লোডার চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।

প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো পৌরসভা এলাকায় আজও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে না পারায় বর্জ্যগুলো প্রায়শই লোকালয়ের মাঝেই পড়ে থাকছে। গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিবেশবিদদের মতে, পৌরসভার সক্ষমতার অভাবে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে, যা প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। গত দু’বছর ধরে ২১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকায় এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে উদাসীনতায় বর্জ্য অপসারণ তদারকির গতিও কমে গেছে।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী রেজাউল করিম আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না করার ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, বড় বাজেটের প্রকল্প ছাড়া এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয়। অতীতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা এলেও তা নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি। জানা যায়, ২০০৭ সালের আগে প্রতি মহল্লায় ডাস্টবিন থাকলেও পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ভ্যানের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন চালু করা হয় এবং মহল্লাভিত্তিক কমিউনিটি বেইজ অর্গানাইজেশন (সিবিও) এর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করে ট্রান্সফার স্টেশনে রাখা হতো, যেখান থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ট্রাকে করে ভাগাড়ে ফেলতেন। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়া শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও মিউনিসিপ্যাল সাপোর্ট ইউনিটের আওতায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।