মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই স্মারকের মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে সামরিক অভিযান বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় দেশই এই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে।
স্মারক অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু না করা, শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকা এবং লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা ও সমঝোতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ‘অবিলম্বে’ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া হবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিকটবর্তী এলাকাগুলো থেকে নিজেদের বাহিনীও সরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার ব্যাপারে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ‘নিরাপদ ও বিনা মূল্যে চলাচল’ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে। হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল সম্পূর্ণরূপে পুনঃস্থাপিত হবে।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরান ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত ‘সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের অঙ্গীকার করেছে। সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ করা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সম্পূর্ণরূপে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এবং এর উপজাত রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রিপোর্টারের নাম 

























